জয়পুরহাটে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, বস্তাপ্রতি লোকসান ৪৫০ টাকা
শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সংরক্ষণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও বাজারে মিলছে না আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম। জয়পুরহাটের হিমাগারগুলোতে প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৪৫০ টাকা, যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। আমন চাষের এই ভরা মৌসুমে আলুর এই দরপতনে হাহাকার শুরু হয়েছে কৃষকদের মাঝে।
জয়পুরহাট জেলায় চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদনের পরও হাসি নেই কৃষকদের মুখে। লাভের আশায় যারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন, চার মাস পরও বাজার স্বাভাবিক না হওয়ায় তাদের এখন মাথায় হাত। বর্তমানে পাইকারি বাজারে ৬০ কেজির এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায়, অথচ হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি বস্তায় খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে প্রতি বস্তায় প্রায় সাড়ে চারশত টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৯ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমি থেকে ৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। তবে মৌসুমের শেষভাগে এসে ভারি বর্ষণে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির আলু নষ্ট হওয়ায় শুরুতেই বড় ধাক্কা খান চাষিরা। পরবর্তীতে লোকসান এড়াতে এবং ভালো দামের আশায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে জেলার ২২টি হিমাগারে মোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন আলু মজুত করেন।
বর্তমানে আমন ধান রোপণের মৌসুম চলায় কৃষকদের জরুরি ভিত্তিতে অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত হিমাগারের আলু বিক্রি করে এই চাষের ব্যয় নির্বাহ করেন তারা, কিন্তু এবার চরম দরপতনের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। জয়পুরহাট সদর উপজেলার হিচমি গ্রামের আলু চাষি আবু তাহের আক্ষেপ করে বলেন, "ভালো লাভের আশায় হিমাগারে দেড়শ বস্তা আলু রেখেছিলাম। কিন্তু এখন যে দাম, তাতে বিক্রি করলে শুধু লোকসানই বাড়বে।"
এদিকে শুধু চাষিরাই নন, লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। কালাই উপজেলার মোলামগাড়ি হাটের ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান জানান, হিমাগার থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় আলু পাঠিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। দেশের বড় মোকামগুলোতে চাহিদা কম থাকায় প্রতি ট্রাক আলুতে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
কালাই উপজেলার নর্থপোল হিমাগারের ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন জানান, গত মার্চে সংরক্ষিত ১ লাখ ৮০ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে মাত্র ৪৩ হাজার বস্তা খালাস হয়েছে। লোকসানের ভয়ে কৃষকরা আলু নিতে না আসায় হিমাগার কর্তৃপক্ষও বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত আলু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কিছুটা বেশি হওয়ায় বাজারে এই সাময়িক মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। তবে কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে এবং আলুর সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।
১১০ বার পড়া হয়েছে