কুড়িগ্রামে সড়ক বিভাগের ‘সিন্ডিকেট’: ভেস্তে যেতে বসেছে ৬৮ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্প
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সিন্ডিকেটের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে উলিপুরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ সড়ক প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে নকশা পরিবর্তন ও ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার কৃষি জমির ওপর অপরিকল্পিতভাবে ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের হিসাব রক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, দেলোয়ার হোসেন, সার্ভেয়ার রনি এবং আসাদুল্লাহ আল গালিবসহ একটি অসাধু চক্র এই সিন্ডিকেটের পেছনে রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের বিপুল অংকের ক্ষতিপূরণ আত্মসাৎ করতেই তারা তড়িঘড়ি করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করেছেন।
যানজট ও নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে উলিপুর হেলিপ্যাড মোড় থেকে গুনাইগাছ মোড় পর্যন্ত ৩.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই সড়কটির নকশায় আমিন মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সড়ক বিভাগের সিন্ডিকেটটি আগে থেকেই নকশা জেনে নিয়ে ওই এলাকায় জমি কিনে রাতারাতি যাতায়াতের রাস্তাবিহীন বহুতল ভবন গড়ে তোলে এবং কৌশলে নিজেদের জমি নকশায় অন্তর্ভুক্ত করে।
সড়ক বিভাগের এহেন কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এই স্বার্থান্বেষী নকশা অনুযায়ী সড়কটি নির্মিত হলে শত শত পরিবার গৃহহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়বে। তাছাড়া আমিন মোড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়বে। স্থানীয়রা নকশা পরিবর্তন করে রেলওয়ের পরিত্যক্ত জমিতে সংযোগ সড়কটি স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত সড়ক বিভাগের হিসাব রক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জমি কেনা এবং ভবন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, এগুলো বসবাসের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং কাকতালীয়ভাবে সংযোগ সড়কের নকশায় তাদের জমি পড়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি এই পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে কেউ বসবাস করে না এবং এগুলো কেবল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল মাত্র।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে চিলমারী সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় ৬৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে জমি অধিগ্রহণের বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ কোটি টাকা ফেরত গেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে