মাউশি খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালকের বিরুদ্ধে এমপিও অনিয়মের অভিযোগ
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) অনুমোদন, নিয়োগ–সংক্রান্ত অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্তে খুলনা সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের অধ্যক্ষকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিতভাবে এমপিও অনুমোদন দিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান, সহকারী শিক্ষক ও অন্যান্য পদধারী কর্মচারীদের এমপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এমপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ছাড়া খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক নিয়োগ এবং পরবর্তী সময়ে এমপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রেও বয়স ও নথিপত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিয়োগ ও এমপিও প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাগুরা সদর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ার একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পেলেও তা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক এনায়েত উল্লাহর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ জারি করা এক আদেশে খুলনা সরকারি ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমানভাবে শুরু হয়নি। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম ও অভিযোগকারীর পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. কামরুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
১৫০ বার পড়া হয়েছে