সর্বশেষ

জাতীয়

কাল মালয়েশিয়া-চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ৯:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ছয় দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার শুরু হওয়া এ সফরে দুই দেশের সঙ্গে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনশক্তি রপ্তানিবিষয়ক একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়া এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রোববার দুপুরে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন। ২১ ও ২২ জুন কুয়ালালামপুরে বিভিন্ন সরকারি ও বাণিজ্যিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জনশক্তি রপ্তানিসহ তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়া সফরের পাশাপাশি দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প খাতে সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

২২ জুন রাতে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের উপকূলীয় শহর দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৩ জুন তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম) প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২৪ জুন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বৈশ্বিক বিনিয়োগ, সবুজ অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অধিবেশনে তার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

চীন সফরে অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্প পার্ক উন্নয়ন এবং অর্থায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

এ ছাড়া চীনের কয়েকটি বড় অবকাঠামো ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকে রেলপথ, সেতু, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পায়নসংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠককে। দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় সেখানে আলোচনায় আসতে পারে।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়া সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং বহুমাত্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন নয়; বরং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের প্রচেষ্টা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারপ্রধান সাধারণত রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণ করেন। তাঁর মতে, মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা উচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী ভারতসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের সফরসূচি চূড়ান্ত করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন