পাবদা মাছের রেণু পোনা চাষে বদলে গেছে কৃষক আব্দুল মজিদের ভাগ্য
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ধান ও আলু চাষে বারবার লোকসানের মুখ দেখেছিলেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষক আব্দুল মজিদ। পরে দেশি পাবদা মাছের রেণু পোনা চাষ শুরু করে তিনি পেয়েছেন নতুন সম্ভাবনার সন্ধান। মাত্র দুই বিঘা পুকুরে রেণু পোনা উৎপাদন করে এখন বছরে আয় করছেন সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার বেশি। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকায় প্রায় ২০০ একর জলাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে দেশি মাছের রেণু পোনা চাষ।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার রাণীপুকুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তবে ধান ও আলু চাষে প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় আর্থিক উন্নতি করতে পারেননি। পরিস্থিতি বদলাতে তিনি প্রায় দুই বছর আগে দেশি পাবদা মাছের রেণু পোনা চাষ শুরু করেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এহেড সোস্যাল অর্গানাইজেশন (এসো)-এর সহযোগিতায় নিজের দুই বিঘা পুকুরে রেণু পোনা উৎপাদনের উদ্যোগ নেন তিনি। শুরুতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে উৎপাদিত দুই লাখ পাবদা পোনা বিক্রি করে আয় করেন দেড় লাখ টাকা। এতে এক চালানেই লাভ হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা।
আব্দুল মজিদ জানান, বছরে পাঁচবার পর্যন্ত রেণু পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হয়। ফলে দুই বিঘা পুকুর থেকেই বছরে চার লাখ টাকার বেশি আয় করছেন তিনি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি যশোর, খুলনা এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তাঁর উৎপাদিত পোনা সরবরাহ করা হয়। মাছ প্রস্তুত হলে ক্রেতারা সরাসরি পুকুরে এসে নগদ অর্থে পোনা কিনে নিয়ে যান।
কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, “সারা জীবন কৃষিকাজ করেছি। ধান ও আলু চাষ করে তেমন লাভ হয়নি। কিন্তু পাবদা মাছের রেণু পোনা চাষ আমার জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন আরও দুই বিঘা পুকুরে দেশি টেংরা মাছের রেণু চাষের পরিকল্পনা করছি।”
তাঁর এই সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ক্ষেতলাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ একর জলাশয়ে পাবদা, গোলসা, টেংরা, তেলাপিয়া ও চিতলসহ বিভিন্ন দেশি মাছের রেণু পোনা চাষ হচ্ছে। এতে একদিকে মাছের উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকরাও নতুন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলার বেলগাড়ি গ্রামের যুবক কৃষক আব্দুল আলিমও রেণু পোনা চাষে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি দেড় বিঘা পুকুরে তেলাপিয়া মাছের রেণু চাষ করে মাত্র তিন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লাভ করেছেন। তাঁর মতে, রেণু পোনা চাষে কিছু ঝুঁকি থাকলেও লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এসোর আঞ্চলিক মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, কম পুঁজি বিনিয়োগ করে দ্রুত লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় দেশি মাছের রেণু পোনা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সংস্থাটি রেণু সংগ্রহ, পুকুর ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা ও বিপণনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত সহায়তা দিচ্ছে।
জয়পুরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, দেশি মাছের রেণু পোনা চাষ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার কারণে জেলার অনেক কৃষক এখন মাছ চাষে লাভবান হচ্ছেন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে