প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৫–১৭ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা: পররাষ্ট্র সচিব
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ১০:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে।
আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল।
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব জানান, বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্পও সফরের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে যাবেন।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। তিনি জানান, সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলকে সীমিত রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া ও চীন—উভয় সফরেই প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এছাড়া ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা সামার দাভোস ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনেও অংশ নেবেন। ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ফোরামে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে নিজেদের অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা ও সংযোগ খাতে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে