টুঙ্গিপাড়ায় বিছানায় প্রস্রাব করায় নাতনী ও পুত্রবধূকে মেরে রক্তাক্ত
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিছানায় প্রস্রাব করায় দেড় বছরের শিশুকে মারধরের প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ির বিরুদ্ধে। নির্মম এই নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সুমি বেগম (২৮) অবশেষে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক কলহের জেরে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে তাড়াইল গ্রামের সোহাগ ফকিরের সঙ্গে সুমি বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে চারটি সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শাশুড়ি রিনা বেগমের প্ররোচনায় যৌতুকের দাবিতে সুমির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুমির স্বামী সোহাগ ফকির জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চাকরি করেন। নির্যাতিত সুমি বারবার বিষয়টি স্বামীকে জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি, উল্টো মায়ের পক্ষ অবলম্বন করতেন। সর্বশেষ শনিবার সকালে সুমির দেড় বছরের ছোট মেয়ে বিছানায় প্রস্রাব করায় শাশুড়ি রিনা বেগম শিশুটিকে প্রচণ্ড মারধর করেন। সুমি এর প্রতিবাদ করতে গেলে শাশুড়ি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন।
নির্যাতন সইতে না পেরে সুমি সন্তানদের নিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে তার বাবার বাড়ির লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সুমির মেজো মেয়ে সুমাইয়া ও ছেলে আলিফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে মায়ের ওপর নিয়মিত চলা নির্যাতনের সত্যতা স্বীকার করেছে। প্রতিবেশী লাখি বেগম ও সনি বেগম জানান, শাশুড়ি রিনা বেগম অত্যন্ত রূঢ় প্রকৃতির এবং বিয়ের পর থেকেই ওই গৃহবধূর ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
অভিযুক্ত শাশুড়ি রিনা বেগম অবশ্য নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি সাধারণ পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি। এদিকে ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম শেখ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবি করেছেন। টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আইয়ুব আলী জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ মেলেনি, তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে