সর্বশেষ

সাহিত্য

গুলশানে কবি আড্ডা: কবিতার আলোয় শহরের ব্যস্ততা ছাপিয়ে মানবিক স্রোত

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানীর গুলশান-১ নিকেতনে অনলাইন পোর্টাল ‘এইমাত্র’-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক নান্দনিক কবি আড্ডা। বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন একাধিক কবি, যারা স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে গড়ে তোলেন এক সৃষ্টিশীল ও আবেগঘন পরিবেশ। শুরুতেই কেক কেটে আড্ডার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
আনুষ্ঠানিক পর্বে কবি আড্ডার বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন- কবি গুলশান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি গুলশান চৌধুরী, ইভ ফারহানা নার্গিস, উম্মুল খায়ের, শিরিন আক্তার শীলা, মেহেরুন নাহার মেঘলা, ফারিন তামান্না, সাজিয়া আক্তার এবং নূর মোহাম্মদ হৃদয়। কবিতা পাঠ, ভাব বিনিময় ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনায় পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাহিত্যিক মিলনমেলায়।

কবি আড্ডার কেক।

আনুষ্ঠানিক পর্বে কবি আড্ডার বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন কবি গুলশান চৌধুরী। তিনি বলেন— “রাজধানীর ব্যস্ততা, শব্দদূষণ আর নিরন্তর ছুটে চলার ভিড়ে কবিতার জন্য আলাদা করে সময় বের করা এখন এক ধরনের নীরব প্রতিরোধের মতোই। এমন এক সময়ে কবিতাদের নিয়ে এই ধরনের কবি আড্ডা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি এক ধরনের মানসিক আশ্রয়, যেখানে শব্দেরা আবার শ্বাস নিতে শেখে, আর অনুভূতিগুলো ফিরে পায় তাদের হারানো ভাষা।”

কবিতা আবৃত্তি করছেন আবৃত্তি ও অভিনয় শিল্পী ফারিন তামান্না।

তিনি আরও বলেন, “কবিতা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ কোনো সাহিত্যিক অনুষঙ্গ নয়; বরং এটি মানুষের জীবনের গভীরতম অনুভূতির সঙ্গে সংলাপ। যখন কবিরা একত্রিত হন, তখন সেখানে শুধু কবিতা পাঠ হয় না—হয় ভাবের বিনিময়, দৃষ্টিভঙ্গির মিলন-মুখোমুখি, এবং নতুন সৃষ্টির নীরব বীজবপন।”

কবি গুলশান চৌধুরী, শিরিন আক্তার শীলা, মেহেরুন নাহার মেঘলা, ইভ ফারহানা নার্গিস, উম্মুল খায়ের ও রনজক রিজভী।

কবি গুলশান চৌধুরী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, “এই শহর যতই আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাক, মানুষের ভেতরের অনুভূতির জায়গাটি এখনো খালি পড়ে থাকে। সেই জায়গা পূরণ করে কবিতা। এই ধরনের আড্ডা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—থেমে গিয়ে নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে শোনার প্রয়োজন আছে। এখানে শহরের কোলাহল কিছুক্ষণের জন্য হলেও থেমে যায়, আর কবিতার আলোয় মানুষ নিজের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হয়।”

কবি আড্ডায় অংশ নেন (বাম দিক থেকে) কবি উম্মুল খায়ের, গুলশান চৌধুরী, শিরিন আক্তার শীলা ও ইভ ফারহানা নার্গিস।

তিনি বলেন, এই আয়োজন কেবল সাহিত্যচর্চা নয়, বরং এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ, যেখানে কবিতা আবার ফিরে আসে মানুষের মুখে, মনে এবং শহরের নীরব শ্বাসে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- সংবাদভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল 'এইমাত্র' এর সম্পাদক ও প্রকাশক রনজক রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নারীদের সাহিত্য ও কবিতাচর্চায় অংশগ্রহণ আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে—এটি একটি বাস্তবতা হিসেবে আমাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিকূল সময়েও বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল এবং জাহানারা ইমাম-এর মতো নারীরা সাহিত্য, সমাজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। সেই তুলনায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীদের উপস্থিতি ও নেতৃত্ব আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখছেন- সংবাদভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল 'এইমাত্র' এর সম্পাদক ও প্রকাশক রনজক রিজভী।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীদের অবদান অত্যন্ত গভীর ও গৌরবময়। স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে নারীরা শুধু অংশগ্রহণই করেননি, বরং অনেক ক্ষেত্রে নীরব কিন্তু শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে তারা তাদের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠিয়ে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

রনজক রিজভী বলেন, এই বাস্তবতা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, সমাজের অগ্রগতিতে নারীদের ভূমিকা কখনোই প্রান্তিক হতে পারে না। বরং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে পারে। তিনি মনে করেন, নারীদের আরও বেশি করে সাহিত্যচর্চা ও কবিতার মতো সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রে এগিয়ে আসা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমান অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক পরিবেশ পায়।

তিনি বলেন, কবি আড্ডার মতো আয়োজন শুধু বিনোদন বা সাহিত্যচর্চার পরিসর নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এমন আয়োজন নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে এবং সমাজে সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

১৮৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সাহিত্য নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন