চট্টগ্রামে এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ, ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি টাকা
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ৩:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ জন্য ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্মার্ট সড়কবাতি ও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে সোমবার অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রযুক্তিনির্ভর দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।
তিনি বলেন, প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম। দীর্ঘদিনের যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং সড়কে আইন অমান্যের প্রবণতা কমাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন ও ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। সেখানে স্মার্ট সিগন্যাল, ট্রাফিক ফ্লো মনিটরিং ক্যামেরা, আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা, নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, রেড সিগন্যাল ডিটেক্টর এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মেয়র জানান, এই ব্যবস্থায় কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। যানবাহনের নম্বরপ্লেট, চলাচলের ধরন এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এর ফলে যানজট কমবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক করিডোর এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত আধুনিক এলইডি সড়কবাতি, ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।
চসিকের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধ, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সড়কবাতির সঙ্গে যুক্ত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক নগর নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সভায় আরও জানানো হয়, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ প্রতিবন্ধকতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত স্মার্ট সড়কবাতি স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎ ব্যয় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
মেয়র বলেন, প্রকল্প দুটির বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত ডিপিপি প্রস্তুত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ট্রাফিক সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি নগরবাসী একটি নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থার সুবিধা পাবে।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, আবু সাদাত তৈয়ব এবং কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় লেন মার্কিং, আইল্যান্ড সংস্কার, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
১১৭ বার পড়া হয়েছে