ফারাক্কা ইস্যু এখন বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের জন্যও ক্ষতিকর: গোলাম মোস্তফা
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফারাক্কা বাঁধ এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, ভারতের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও ভিসিসি চেয়ারম্যান এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।
শনিবার (১৬ মে) ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভসিসি)-রংপুর আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত পাঁচ দশক ধরে ফারাক্কা ইস্যুতে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ভারতের অবস্থানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বর্তমানে ভারতও একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরেও ফারাক্কা বিরোধী জনমত গড়ে উঠছে।
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আরও বলেন, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীর পানিপ্রবাহ যাতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে, সে লক্ষ্যেই ১৯৬১ সালে ভারত সরকার ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যারাজ চালুর পর মালদহ ও মুর্শিদাবাদে নদীভাঙনের মাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। আশির দশকে শুরু হওয়া ছোটখাটো ভাঙন নব্বইয়ের দশকে ভয়াবহ রূপ নেয়। ১৯৯০–৯১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বহু ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের গঙ্গা তীরবর্তী মানুষ ফারাক্কা ব্যারাজের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্যও এটি বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বিহার রাজ্যও ফারাক্কার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিহার সরকারের মতে, ফারাক্কার প্রভাবে প্রায় প্রতিবছরই বন্যা ও নদীভাঙনের ঘটনা ঘটছে।
ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে মওলানা ভাসানী আগেই সতর্ক করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে ভাসানীই প্রথম এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে পানি ব্যবস্থাপনায় উদাসীন থেকেছে। ভারতের কাছ থেকে কখনোই পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া যাবে না—এ কথা মাথায় রেখে দেশের পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। না হলে দেশ বড় সংকটে পড়বে। আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমেই অধিকার আদায় সম্ভব—মওলানা ভাসানী সে পথই দেখিয়ে গেছেন।
এনডিপি মহাসচিব ও ভিসিসি নির্বাহী পরিচালক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, পাঁচ দশকেও ফারাক্কা সমস্যার মতো জাতীয় সংকট আমাদের জাগাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে নীরবতা মেনে নেওয়া ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, বরাক নদীর উজানে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ভারতীয় পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় মওলানা ভাসানীর আদর্শে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মিতা রহমান বলেন, দেশ আজ একজন দেশপ্রেমিক, সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের শূন্যতা অনুভব করছে। এ সংকটময় সময়ে মওলানা ভাসানীর মতো নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতের কথিত অন্যায় পানি নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা সম্পাদক অশোক ধর, বিশিষ্ট সংগঠক মহিউদ্দিন আহমেদ, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিক তালুকদার, বাংলাদেশ ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মিতা রহমান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এএফএম শরীফুল আলম এবং সংগঠনের পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও ভিসিসি চেয়ারম্যান এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ভিসিসি নির্বাহী পরিচালক ও এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে