সর্বশেষ

শিক্ষা

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি পদে বিতর্কে ড. ইলিয়াস সিদ্দিকীর নাম

স্টাফ রিপোর্টার  
স্টাফ রিপোর্টার  

শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬ ৬:৪১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে যখন ব্যাপক আলোচনা চলছে, তখন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) পদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস সিদ্দিকীর নাম আলোচনায় এসেছে।

সম্ভাব্য এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষা অঙ্গনে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রশাসনিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন ড. ইলিয়াস সিদ্দিকী। বিশেষ করে “ইসলাম ও মানবতার সেবায় বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক বই প্রকাশের পর তাঁকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের আস্থাভাজন হিসেবে দেখা হতো। সমালোচকদের মতে, ওই সময়ে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক রদবদল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর প্রভাব ছিল দৃশ্যমান।

তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বর্তমানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি পদ পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ, তদবির এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লবিং চালাচ্ছেন ড. ইলিয়াস সিদ্দিকী।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছিল বলেও জানা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শিরিন আক্তারের একটি সুপারিশপত্র ঘিরেও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ওই চিঠিতে ড. ইলিয়াস সিদ্দিকীকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস সিদ্দিকী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অভিজ্ঞ অধ্যাপক এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান। তিনি এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সিনিয়র হাউস টিউটর (ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সুপারিশপত্রে আরও বলা হয়, তিনি একজন গবেষক, চিন্তাবিদ, সুলেখক ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে পরিচিত। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০১৫ সালে তিনি ডেপুটেশনে পরিদর্শক পদে যোগ দেন এবং ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাকালীন পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ডিন, ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর, সিন্ডিকেট সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য, বোর্ড অব অ্যাডভান্স স্টাডিজ সদস্য, অর্থ কমিটির সদস্য, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সদস্য, অধিভুক্তি কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।

চিঠিতে তাঁর রচিত ২৮৭ পৃষ্ঠার “ইসলাম ও মানবতার সেবায় বঙ্গবন্ধু” বইটির কথাও উল্লেখ করা হয় এবং তাঁকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য জোর সুপারিশ করা হয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বইটির মুখবন্ধে তৎকালীন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শিরিন আক্তারের মন্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ড. ইলিয়াস সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ সরকারের আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের একজন ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে বিতর্ক ও আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
শিক্ষা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন