বনানীতে ‘অফিশিয়াল থানা’ চালাচ্ছেন শহীদ: সোর্স পরিচয়ে দখল ও অপরাধের জাল
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬ ৪:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বনানীর গোডাউন এলাকা এবং ঝিলপাড় এখন শুধু অভিজাততা ও শপিংয়ের জন্য নয়, বরং এক ভয়ানক অপরাধ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। অভিযোগ উঠেছে, শহীদ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় সমান্তরাল প্রশাসন পরিচালনা করছেন। মাদক, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলার নিয়ন্ত্রণ সবই তার নিয়ন্ত্রণে।
স্থানীয়রা বলছেন, বনানী থানার নতুন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শহীদ দ্রুত সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং পুলিশের চোখের আড়ালে নিজের অপরাধ নেটওয়ার্ককে রক্ষা করেন। গ্রেপ্তার আসামি টাকার বিনিময়ে ছাড়ানো, মামলা হালকা করা, এমনকি পুলিশ অভিযানে জব্দ হওয়া মাদক পুনর্বিক্রি—সবই শহীদের নিয়ন্ত্রণে।
অপরাধী রাজনৈতিক পারদর্শিতাও দেখান। একসময় যুবলীগের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন, কিন্তু ৫ই আগস্টের পর নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। ক্ষমতার পালাবদলকে পুঁজি করে বনানীর গোডাউন এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা তার প্রধান আয় উৎসে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শহীদকে মাসোহারা না দিলে ব্যবসা চালানো অসম্ভব। কখনও কখনও দোকান থেকে মানুষ তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়, মিথ্যা মামলায় ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “সোর্স পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে ছাড় দেওয়ার কোনো প্রশ্ন আসে না। শহীদ সম্পর্কে আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। আইন তার গতিতে চলবে।”
বিএনপির স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, শহীদ দলের কোনো পদে নেই এবং দলের নামে তার অপরাধের দায়ভার দল নেবে না। প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অপরাধের এই ছদ্মবেশী সাম্রাজ্য বনানীর সাধারণ মানুষকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বনানী একসময় অপরাধমুক্ত অঞ্চল থেকে অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে