সর্বশেষ

মতামত

ক্যামেরা ট্রায়ালে পাস, মাঠে ফেল কুষ্টিয়া বিএনপির নেতৃত্বে শুধুই কি তেলেসমাতি?

আশরাফুল ইসলাম অনিক
আশরাফুল ইসলাম অনিক

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ ৪:২১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
“অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই অমোঘ সত্য আজ কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির প্রতিটি ব্যথিত কর্মীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে বাজছে। কুষ্টিয়ার আকাশ-বাতাস এখন আর রাজনৈতিক স্লোগানে মুখরিত হয় না, বরং সেখানে গুমরে মরছে বঞ্চিত আর অবহেলিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের দীর্ঘশ্বাস। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছে, মামলা-হামলার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে, আজ তারাই নিজ ঘরে পরবাসী।

দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী কমিটিকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর দুই সদস্যের ‘পঙ্গু’ আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে সংগঠন চালানোর যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার বিষফল এখন চুইয়ে পড়ছে তৃণমূল পর্যন্ত। পরবর্তীতে ৪ নভেম্বর ২০২৪ পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলেও তা যেন আগুনের ক্ষোভে ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো কাজ করেছে।

সাংগঠনিক গতিশীলতা ফেরাতে স্বয়ং তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালীন তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ৬ জুলাই ২০২৫-এর সভায় নির্দেশনা ছিল ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্মেলন শেষ করার। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে গেলেও কুষ্টিয়া বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ‘কুম্ভকর্ণের ঘুম’ ভাঙেনি। সম্মেলনের প্রস্তুতির ছিটেফোঁটাও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।

ছয়টি উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতেই গঠিত হয়েছে চরম বিতর্কিত কমিটি। বাকি একটিতে এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার মুরোদ নেই নেতৃত্বের। ৫টি পৌর কমিটির অবস্থা আরও শোচনীয়; সেখানে গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে পকেট ভারী করার রাজনীতিই কি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে? তৃণমূলের সাফ কথা, এই ব্যর্থতা সাংগঠনিক অদক্ষতা নয়, বরং সচেতনভাবে সংগঠনকে পিছিয়ে রাখার এক গভীর নীলনকশা।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে কুষ্টিয়া জেলা যুবদল কমিটিবিহীন এক অদ্ভুত আঁধারে নিমজ্জিত। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ঘটা করে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করা হলেও সেই ফাইলগুলো আজ হয়তো কোনো ড্রয়ারে ধুলো জমছে। ‘শীঘ্রই কমিটি হবে’—এই ললিপপ এখন আর যুবদলের তেজস্বী কর্মীদের শান্ত করতে পারছে না।

শুধু যুবদল নয়, জেলা বিএনপির অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। কৃষক দল, মহিলা দল স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তাঁতি দলের কোনো অস্তিত্ব নেই, মৎস্যজীবী দল নিষ্প্রাণ ও নিষ্ক্রিয় এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাস-এর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। একমাত্র জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল মাঝে মাঝে 'টুকটাক নড়েচড়ে' উঠলেও, তা বৃহত্তর আন্দোলন বা সাংগঠনিক গতিশীলতার জন্য যথেষ্ট নয়।

ক্যামেরা ট্রায়ালে দক্ষতা দেখালেও, বাস্তবে জেলা বিএনপি সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কমিটি যত, পদ তত—আর নেতা সেই কয়জনই। এর বাইরে সংগঠন বিস্তারের কোনো বাস্তব উদ্যোগই চোখে পড়ে না।

এই সাংগঠনিক জগাখিচুড়ির সরাসরি প্রভাব পড়েছে নির্বাচনী মাঠে। চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বিএনপিকে। নেতৃত্বের এই তেলেসমাতি আর অভ্যন্তরীণ বিভেদের কারণেই কুষ্টিয়া আজ বিএনপির হাতছাড়া হওয়ার পথে।

তৃণমূলের লড়াকু সৈনিকরা এখন আর ফাঁকা বুলি শুনতে চায় না। তাদের দাবি, কার নামে কতটি রাজনৈতিক মামলা আছে, কারা ১৭ বছর রাজপথে রক্তাক্ত হয়েছে, আর কারা ড্রয়িংরুমে বসে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে—তার স্বচ্ছ হিসাব চাই। সংগঠনের এই অচলাবস্থার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

কুষ্টিয়ার রাজনীতি এখন আর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ‘জাদুঘর’ হতে পারে না। রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে যারা সংগঠন নিয়ে ‘তেলেসমাতি’ খেলছেন, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

১৪৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন