হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে, প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘিরে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ ৩:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সোমবার (৪ মে) উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে এবং দীর্ঘদিনের নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা। তবে এ ঘোষণার পরপরই ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট সামরিক নৌযান ধ্বংস করেছে এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনের একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের বিমা খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। ইরান ১৪ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন এই অভিযানের সমালোচনা করে একে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা এই হামলাকে ‘ভয়াবহ উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো আপাতত হরমুজ প্রণালী ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে প্রণালীর প্রকৃত পরিস্থিতি এখনও পরিষ্কার নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সামরিক উদ্যোগ উত্তেজনা কমানোর বদলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
১০৩ বার পড়া হয়েছে