সর্বশেষ

রাজনীতি

হাওরের সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশ ন্যাপের

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হাওরের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)।

একই সঙ্গে পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

রবিবার (৩ মে) বাংলাদেশ ন্যাপের প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তাকিন ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি এবং মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, হাওরাঞ্চলে প্রধান ফসল হলো বোরো ধান। কৃষকের সারা বছরের খাদ্য জোগান, আশা-ভরসা ও স্বপ্ন এই একটি ফসলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। মাত্র কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই পাকা ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকের চোখের সামনে পাকা ধান পচে যাচ্ছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই যেসব ধান ঘরে তোলার কথা ছিল, সেগুলো এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে হাওরাঞ্চলের কৃষকের অস্তিত্বই চরম সংকটে পড়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে, সব মিলিয়ে কৃষকেরা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন।

তারা আরও বলেন, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যার পর হাওর ব্যবস্থাপনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠিত হলেও এ বছর তারা উজান থেকে আসা ঢলের পানি ঠেকানো, বাঁধ নির্মাণ, বন্যা সতর্কতা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর ফলে গত সপ্তাহের অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের কষ্টার্জিত ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নেতারা বলেন, হাওরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। বরং ফসল রক্ষার নামে কিছু বাঁধ এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যা কৃষকের জন্য উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার পাহাড়ি ঢলে নয়, বরং টানা বৃষ্টির পানি বাঁধের কারণে নদীতে নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

তারা আরও বলেন, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চল বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে। তিন মাসের পরিশ্রমে উৎপাদিত সোনালী ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন। শুকানোর জায়গা ও অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে ঘরে তোলা ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে হাওরজুড়ে উৎসবের পরিবর্তে হতাশা ও পচা ধানের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে, যার মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ হাওরাঞ্চল থেকে উৎপাদিত হয়। সময়মতো হাওরের ফসল ঘরে তুলতে পারলে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে এবং চালের বাজার স্থিতিশীল থাকে। অন্যথায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।

নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাওরের ফসল সুরক্ষায় আগে থেকেই কার্যকর ও আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অবিলম্বে হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে আগামী ফসল না ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারকে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি অন্তত ছয় মাস রেশনিং ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।

এছাড়া কৃষকদের কৃষিঋণ, এনজিও ও মহাজনী ঋণ আদায় আগামী ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে সুদ মওকুফের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ধানচাষিদের জন্য সরকারি পর্যায়ে বিশেষ শস্যবিমা চালুর আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

১০৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন