কাশিয়ানীতে সড়ক ও সাঁকো বন্ধ করে দেয়ায় ৩২ পরিবার অবরুদ্ধ
রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামে সড়ক ও সরকারি খালের ওপর ইউনিয়ন পরিষদ নির্মিত বাঁশের সাঁকো বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এতে ওই গ্রামের অন্তত ৩২টি পরিবারের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরেজমিনে জানা গেছে, বিআরএস জরিপের ২৮১৩ নম্বর দাগের ওপর দিয়ে পুইশুর ইউনিয়ন পরিষদ একটি সড়ক নির্মাণ করে, যা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন গ্রামবাসীরা।
কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল স্থানীয় প্রভাবশালী স্বপন শরীফ ও রমজান শরীফ নিজেদের জায়গা দাবি করে সড়কের মাটি কেটে ফেলে এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় সরকারি খালের ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোর আংশিক অংশও ভেঙে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় সীতারামপুর গ্রামের ৩২টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত, হাট-বাজারে চলাচল এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. জাহিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, “স্থানীয় প্রভাবশালীরা আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। হাটবাজারে যেতে কাদা-পানি মাড়াতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধান দরকার।”
আরেক ভুক্তভোগী মিরাজ খান বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ যে মাটির রাস্তা তৈরি করেছিল, সেটিই এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সাঁকোর অংশও ভেঙে ফেলা হয়েছে, ফলে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ।”
নাজিম সরদার জানান, “এ বছর অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। রোগী আনা-নেওয়াতেও সমস্যা হচ্ছে।”
নাসির খান বলেন, “এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় ধান বাড়িতে আনতে পারছি না।”
অভিযুক্ত স্বপন শরীফ দাবি করেন, “যে জমি নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি আমাদের মালিকানাধীন। ইউনিয়ন পরিষদ আমাদের সাথে আলোচনা না করেই রাস্তা ও সাঁকো তৈরি করেছে। আমরা সেখানে ঘর তুলতে চাই, কিন্তু বাধা পাচ্ছি।”
পুইশুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য পিল্টন শিকদার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসা করা হয়েছে। স্থানীয় তহশিলদারও পরিদর্শন করেছেন। তবে অভিযুক্তরা কোনো সিদ্ধান্ত মানছেন না। সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিন মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় তহশিলদারকে বিষয়টি তদন্ত ও উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
১০৪ বার পড়া হয়েছে