কুড়িগ্রামে দুই বছরের শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটন, দম্পতি গ্রেফতার
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ৩:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পাশের বাড়িতে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া দুই বছরের শিশু আয়েশা আক্তার আশুরা হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের কন্যা আয়েশা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে নিহত শিশুর বাবা অজ্ঞাতদের আসামি করে চিলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি দ্রুত তদন্ত ও আসামি শনাক্তের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মো. আশরাফুল আলম (পিপিএম)-এর তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩০ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে মাচাবান্ধা এলাকার কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন শিশু আয়েশা খেলতে গিয়ে অভিযুক্ত দম্পতির সন্তানের সঙ্গে একটি কলম নিয়ে খেলছিল। এ সময় দুর্ঘটনাবশত কলমের আঘাতে শিশুটির চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। শিশুটি কান্নাকাটি করলে বিষয়টি গোপন করতে কহিনুর বেগম তার মুখ চেপে ধরেন। এতে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। পরে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রেখে রাতে পাশের পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১ মে) গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে কহিনুর বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরই দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
১২৬ বার পড়া হয়েছে