বারিধারায় গির্জায় ঢুকে ফাদারকে বেঁধে লুট, তিনজন গ্রেপ্তার
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ৩:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর বারিধারায় একটি গির্জায় ঢুকে পরিচালকের হাত-পা ও মুখ বেঁধে নগদ অর্থসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া প্রায় আড়াই লাখ টাকা, একটি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং গ্রিল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার ভাটারা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু (৩৬), মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান (৩৭) এবং আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির (৩৮)। পুলিশ জানায়, তারা মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এবং এসবের অর্থ জোগাড় করতেই এই লুটের পরিকল্পনা করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মুখে মাস্ক পরা দুই দুষ্কৃতকারী বারিধারার ‘ডি মাজেন্ড গির্জা’র সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা গির্জার কর্মচারীদের কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে গির্জার পরিচালক সুবাস পুলক গোমেজ-এর কক্ষের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাঁকে বেঁধে ফেলে। এরপর আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। পরে বাইরে থাকা সহযোগীর সহায়তায় তারা ব্যাটারিচালিত রিকশায় পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভাটারা থানায় একটি দস্যুতার মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে শনাক্ত করে। ঢাকার বিভিন্ন গ্যারেজে খোঁজ নিয়ে রিকশাচালক আক্তার হোসেনকে চিহ্নিত করা হয় এবং মুগদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ও ব্যবহৃত রিকশা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতির দুর্গম চরাঞ্চল থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। সর্বশেষ রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া মিজান ও আক্তারের বিরুদ্ধেও পূর্বে দস্যুতা ও মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার তানভীর আহমেদ বলেন, সম্প্রতি ইস্টার উপলক্ষে গির্জায় বেশি অর্থ থাকতে পারে—এমন ধারণা থেকেই তারা এই পরিকল্পনা করে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০১ বার পড়া হয়েছে