ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশুকে হত্যা: ৬ দিনে রহস্য উদঘাটন, আটক ৩
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ৪:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয়দিন পর ৭ বছর বয়সী শিশু আইরিন আক্তার বিনা (কবিতা)-এর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে আইরিন স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং বিষয়টি এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এরপর কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্বজনরা অনুসন্ধান চালিয়ে যান।
তবে ৩০ এপ্রিল সকালে বাখুন্ডা এলাকার একটি কলাবাগানে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা খোঁজ নিতে গিয়ে একটি অজ্ঞাত লাশের সন্ধান পান। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে লাশটি নিখোঁজ আইরিনের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে কোতয়ালী থানা ও ডিবি পুলিশ হত্যা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তিনজনকে শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে লাশটি গোপনে সরিয়ে বিভিন্ন স্থানে লুকানোর চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, পরবর্তীতে লাশটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে কলাবাগানে ফেলে রাখা হয়, যাতে পরিচয় গোপন থাকে।
ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিশুর পোশাক, স্যান্ডেল, একটি প্লাস্টিক ড্রাম ও একটি কম্বল উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি ও দ্রুত তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
১৯৯ বার পড়া হয়েছে