নেত্রকোনায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, হাওরে বন্যার শঙ্কা
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো হাওররক্ষা বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়া যায়নি। বৃষ্টির পানি জমে হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং উঠতি ফসলী জমি নিমজ্জিত হয়েছে।
হাওরের পাকা বোরো ধান রক্ষায় কৃষকরা দ্রুত ধান কাটায় নেমেছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, দ্রুত পানি বৃদ্ধির কারণে জমিতে পানি জমে গেছে। ফলে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, এতে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া স্টেশনে বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত কংস নদের পানি বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে কলমাকান্দা উপজেলার উপদাখালী নদীর পানি ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে, এতে হাওরের সম্পূর্ণ ফসল তলিয়ে যেতে পারে। এছাড়া কলমাকান্দার মহাদেও, গনেশ্বরী, মঙ্গলেশ্বরীসহ ছোট-বড় সব নদীর পানিও বেড়েছে। ইতোমধ্যে মেদী ও তেলেঙ্গাসহ কয়েকটি বিলে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মামুন জানান, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বন্যার আশঙ্কা তেমন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জি, সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানি আরও বাড়তে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে এখনো সব বেড়িবাঁধ অক্ষত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে ফসল কাটতে পারেন সে জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। পাশাপাশি বাঁধের পিআইসি কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউএনওরা মাঠে রয়েছেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে