সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার চেষ্টা, কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২:১০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলমান থাকলেও কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। বরং প্রকাশ্য আলোচনার বাইরে, আড়ালেই চলছে নতুন সমঝোতার চেষ্টা—যেখানে আপাতত পারমাণবিক ইস্যুকে পাশে রেখে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া, পাকিস্তান ও ওমান সফর করে আঞ্চলিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি ভ্লাদিমির পুতিন–এর সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক করেন এবং ইসলামাবাদ ও মাসকটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌ চলাচল ও সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হলেও পারমাণবিক ইস্যু আপাতত আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ওমানের রাজধানী মাসকটে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, আলোচনা শুধু রাজনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকেও সমন্বয় চলছে।

ইরান ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ইসলামাবাদ এখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এ বিষয়ে শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আরাগচির একাধিক বৈঠক হয়েছে।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা স্বীকার না করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ থেকে সরে আসতেই হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান প্রস্তাব তার প্রত্যাশা পূরণ করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান কূটনৈতিক উদ্যোগ আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এগোচ্ছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর এবার তেহরান আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন সংঘাতের বদলে সমঝোতার পথেই আগ্রহী।

তবে বড় বাধা রয়ে গেছে পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে মতপার্থক্য। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল থেকেও সরে আসেনি ইরান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনার অগ্রগতি হলেও তা আপাতত জনসমক্ষে আসবে না। বরং গোপন কূটনৈতিক চ্যানেলেই আলোচনা চলবে এবং কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা কাছাকাছি এলেই তা প্রকাশ পাবে।

এদিকে সময়ও বড় একটি চাপ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক অভিযানের অনুমোদন, চীনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠক এবং হজ মৌসুম—সব মিলিয়ে মে মাসকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

সবকিছু মিলিয়ে, প্রকাশ্যে অচলাবস্থা থাকলেও পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনীতি যে থেমে নেই, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

২০০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন