সর্বশেষ

সারাদেশ

কালিয়াকৈর স্বাস্থ্য বিভাগে জালিয়াতির ছক

জরায়ু ক্যান্সার পরীক্ষায় ‘ভুয়া এন্ট্রি’র অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:৫৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুনের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে জেলায় শীর্ষস্থান দখলের নেশায় কোনো পরীক্ষা ছাড়াই শত শত নারীর এনআইডি (NID) কার্ড সংগ্রহ করে সেগুলোকে ভায়া (VIA) বা জরায়ু ক্যান্সার স্ক্রিনিং হিসেবে এন্ট্রি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ নারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারসহ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চরম তামাশা করা হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র সংখ্যাতত্ত্বে জেলায় প্রথম হওয়ার নেশায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন ডা. মুনমুন। জরায়ুর ক্যান্সার নিরূপণের জন্য বিশেষ শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজন থাকলেও, তিনি আউটডোর ও ইনডোরে আসা সাধারণ নারী রোগীদের এনআইডি কার্ড এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সেগুলোকে পরীক্ষা ছাড়াই ভায়া সম্পন্ন হিসেবে এন্ট্রি দেওয়ার নির্দেশ দেন। এমনকি স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এলাকা থেকেও কৌশলে এনআইডি কার্ড জোগাড় করে ভুয়া ডাটাবেজ তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জরায়ু ক্যান্সারের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এমন জালিয়াতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ প্রহসন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ডা. মুনমুন গত বছরের অক্টোবরে এনসিপির প্রভাব খাটিয়ে কালিয়াকৈরে পোস্টিং নেন। এর আগে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ এবং বাগেরহাট সদর হাসপাতালে থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে ডায়েট দুর্নীতি, ভুয়া পোস্টমর্টেম সার্টিফিকেট এবং টেন্ডার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। দুই জায়গাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে তিনি বদলি হতে বাধ্য হন। কালিয়াকৈরে যোগ দেওয়ার পর তার দুর্নীতির নতুন অধ্যায় আরও প্রকট হয়েছে।

হাসপাতালের ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ডেলিভারি না হলেও সেগুলোকে ডেলিভারি হিসেবে এন্ট্রি দেওয়ার জন্য চাপ দেন। বিভিন্ন টিকার জাতীয় প্রোগ্রামেও তিনি টিকা না দিয়ে সেগুলো এন্ট্রি করার জন্য চাপ দেন। স্থানীয় সাংসদ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স জরুরি প্রয়োজনে রোগী আনা-নেয়ার জন্য সচল রাখতে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার নিয়োগ দিতে বললেও, তিনি অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জিপ গাড়ি চালানোর কাজ করান, যার ফলে রোগীরা প্রয়োজনের সময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পায় না। জানা যায়, পূর্বের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ যেমন বাজার করা, ব্যক্তিগত চেম্বারে আনা-নেয়া করা, বাচ্চাদের ঘুরাতে নিয়ে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনদের আনা-নেয়া করা—এসব করাতেন। এজন্য ড্রাইভার চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।

হাসপাতালে ২০ জন রোগী থাকলে কাগজে-কলমে ৪০ জন দেখিয়ে ডায়েট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি অর্থ লোপাট করছেন। হাসপাতালের ধোলাই ঠিকাদারকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডায়েট ও স্টেশনারি সরবরাহের কাজ দিয়েছেন তিনি। উক্ত ঠিকাদার প্রকাশ্যে ডা. মুনমুনকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার কথা বলে বেড়ান। ৩ টাকার সরকারি টিকিটের পরিবর্তে মূল্যহীন নতুন টিকিট ছাপিয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা করে আদায় করছেন এবং সেই বাড়তি টাকা নিজের পকেটে ভরছেন। হাসপাতাল কোয়ার্টারে নার্স নার্গিস, শিরিন, মিডওয়াইফ হাজেরাসহ অনেককেই সরকারি বরাদ্দ না নিয়ে ভাড়া দিয়ে তা নিজেই আত্মসাৎ করছেন।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সেবাপ্রার্থী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ডা. মুনমুন ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে বেশিরভাগ সময় হাসপাতাল কোয়ার্টারে কাটান, ফলে সাধারণ রোগীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে সেবা না পেয়ে ফিরে যান। সহকর্মী চিকিৎসক ও স্টাফদের সঙ্গেও তিনি চরম দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি নারী চিকিৎসকদেরও তার কক্ষের বাথরুম ব্যবহার করতে দেন না, কারণ সেখানে সব সময় ক্লিনিক দালাল ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের আড্ডা চলে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তবে কিছু কিছু বিষয় খতিয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন জানান, আমি এর আগেও এ বিষয়ে তাকে সতর্ক করেছি, তবু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী রোগীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

১৮০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন