সালথায় অস্ত্র জমাদানকারীদের সম্মান জানিয়ে প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ ৪:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়া ব্যক্তিদের ফুল দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি দেয় প্রশাসন। এ সময় মোট ২৩টি দেশীয় তৈরি ঢাল ও সড়কি জমা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভয়ভীতি বা দণ্ডমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সম্মান ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করা সম্ভব—এই উদ্যোগ তারই বাস্তব উদাহরণ। তারা আরও বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়রা জানান, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক স্বীকৃতি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে কার্যকর প্রভাব ফেলে। অস্ত্র জমাদানকারীদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে প্রশাসন একটি মানবিক ও দূরদর্শী বার্তা দিয়েছে, যা এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে।
সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ, পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রজিৎ মল্লিক এবং সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথি ফাতেমা ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তারা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা বাড়ায়। তাই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
১১৫ বার পড়া হয়েছে