সর্বশেষ

সারাদেশ

মোংলায় কোস্ট গার্ডের ভাসমান স্টেশনে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, উত্তেজনা প্রশমনে ফাঁকা গুলি

মাসুদ রানা, মোংলা
মাসুদ রানা, মোংলা

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ ৪:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনিরঘোল এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি ভাসমান স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় কোস্ট গার্ডের তিন সদস্যসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে জয়মনিরঘোলে ভাসমান স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। স্টেশনটি চালুর পর বনদস্যু ও চোরাকারবারিদের রসদ, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি অপসারণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রলার ও নৌকাযোগে একদল দুর্বৃত্ত স্টেশনে হামলা চালায়। সরকারি সম্পদ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। হামলায় কোস্ট গার্ডের তিন সদস্যসহ চারজন আহত হন।

তবে স্থানীয় সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ গত ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, সিভিল পোশাকে আসা কোনো বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তার খোঁজ মিলছে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরাজের মা তাসলিমা বেগম, স্ত্রী মুক্তা বেগম ও বোন লিজা ইসলামসহ স্বজনরা তাকে খুঁজতে কোস্ট গার্ডের স্টেশনে যান। এ সময় স্টেশনের সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয়দের একটি অংশ স্টেশনে ভাঙচুর চালায় বলে জানা যায়। সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন নারী-পুরুষও আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে জয়মনিরঘোল এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে কোস্ট গার্ড। পাশাপাশি সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যৌথ চিরুনি অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

১৬৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন