সর্বশেষ

সারাদেশ

জামালপুর সীমান্তে পুশইনের শিকার বৃদ্ধকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর
ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ ৩:১১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া ৬৮ বছর বয়সী ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ও জামালপুর-৩৫ বিজিবির সদস্যরা তাকে তার বড় ভাই ভবানী বর্মনের কাছে বুঝিয়ে দেন।

ষষ্টি চন্দ্র বর্মন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রামের বাবু চন্দ্র বর্মনের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।

বুধবার (১০ জুন) সকালে বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলারের কাছে তাকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এ সময় বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে শূন্যরেখায় রেখে চলে যায়। পরে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়রা তাকে বাধা দিলে তিনি আবার শূন্যরেখায় ফিরে যান।

এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো পক্ষই তাকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণে সম্মত হয়নি। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই দেশের সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলেও সারারাত শূন্যরেখাতেই অবস্থান করেন ষষ্টি চন্দ্র বর্মন।

এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও ছবি দেখে তার স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। পরে তারা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় নেওয়া হয় এবং পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী থেকে তার বড় ভাই ভবানী বর্মন ও মেয়ের জামাতা বকশীগঞ্জ থানায় এসে তাকে গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পর ভাইকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকেলে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে রাজশাহীর উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের বড় ভাই ভবানী বর্মন বলেন, “দুই মাস আগে আমার ভাই নিখোঁজ হয়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে থানায় অভিযোগ করতে পারিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে তাকে শনাক্ত করি। পরে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে আজ তাকে ফিরে পেলাম।”

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকেলে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন