সর্বশেষ

ফেবু লিখন

জাহিদ হোসেন জাফর ভাইয়ের চলে যাওয়া

কাজী আখতার হোসেন
কাজী আখতার হোসেন

বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জাফর ভাইকে চিনি সেই পাকিস্তান আমল থেকে যখন আমরা ক্লাস এইটে পড়ি। সে সময় তিনি কুমারখালী থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং হান্নান ভাই সভাপতি। আমাদের এম এন স্কুলে সাংগঠনিক সফরে উনারা আসতেন। কুষ্টিয়া থেকে আসতেন খন্দকার রশিদুজ্জামান দুদু ভাই, গিয়াস উদ্দিন মিন্টু ভাই এবং অনেকে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউল বারী নোমান কমান্ডার এবং জাফর ভাই ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। কুষ্টিয়া এলাকায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মুখ যুদ্ধে উনি অংশগ্রহণ করেন।

আমাদের পাড়ার মেয়ে টুনির সঙ্গে জাফর ভাইয়ের বিয়ে হয়। টুনি আমার এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। রাজনীতির বিভিন্ন বিবর্তন হয়। বিভিন্ন পদ অলংকৃত করেন জাফর ভাই।

তখন আমার কর্মস্থল পাবনা। তরুণ ভাই একদিন আমার অফিসে হাজির তাও মোটরসাইকেলে এবং মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন জাফর ভাই। সারাদিন আমার সঙ্গেই উনারা দুইজন কাটান এবং সন্ধ্যায় কুমারখালী ফিরে যান পদ্মা পার হয়ে।

কর্মস্থল আমার নরসিংদীতে, সেখানকার জেলা প্রশাসক হিসেবে। নতুন জেলা আনসার এডজুট্যান্ট স্বাভাবিকভাবেই সাক্ষাৎ করতে এলেন আমার সঙ্গে।স্যালুট দিয়ে দাঁড়ালেন । বসতে বললাম।
পরিচয় দিলেন তার নাম ঈশান আলী রাজা বাঙ্গালী। বাড়ি কুমারখালী পিতার নাম জাহিদ হোসেন জাফর।
আমি যোগ দিয়ে বললাম তোমার মায়ের নাম টুনি।

এরপর একদিন জাফর ভাই ও তার স্ত্রী আমার নরসিংদীর বাসভবনে আসেন আমার আমন্ত্রণে। অনেক রাত অবধি আমরা নানা গল্প গুজব করি।

পরবর্তীকালের জাফর ভাইয়ের পুত্রবধূ অর্থাৎ ঈশানালী রাজা বাঙ্গালীর স্ত্রী নানাবিধ খাবার রান্না করে বহুদিন আমার নরসিংদী থাকাকালীন খাইয়েছেন। একপর্যায়ে স্যার থেকে আমি ঈশানালী রাজা বাঙ্গালির মামা হয়ে যাই।

তারপর তো নানা ভাবে নানা সময়ে জাফর ভাইয়ের সঙ্গে মেলামেশা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা সমিতি সূত্রেও অনেকবার দেখা হয়েছে।

সরকারের সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে যেবার প্রথম কুমারখালী যাই আমাকে ব্যাপকভাবে সংবর্ধনা দেয়া হয়। স্থানীয় এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সমাজের সকল পর্যায়ের প্রতিনিধিবর্গের উপস্থিতিতে অনেকেই নানা রকম বক্তব্য রাখেন। কোন কোন ক্ষেত্রে তা আমার জন্য ছিল বিব্রতকর। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সুকদেব সাহা ( কবি ও ব্যাংক কর্মকর্তা।) কুমারখালীর মাধ্যমিক শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাহিদ হোসেন জাফর ভাই। তিনি পান্টি গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

ঐদিন আমি যতগুলো ক্রেস্ট পেয়েছিলাম সারা জীবনেও সম্ভবত এতগুলো ক্রেস্ট পেয়েছি কিনা বলতে পারব না।
জাহিদ হোসেন জাফর ভাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তার রাজনীতি যাই হোক মানুষ হিসেবে তিনি অমায়িক ছিলেন। বলা যায় আমাদের জেলায় একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদের অবসান হলো। নিজের গ্রামকেই তিনি বেশি ভালবাসতেন। জীবনের অধিকাংশ সময় নিজ গ্রামেই কাটিয়েছেন।

আজ তার মৃত্যু সংবাদে সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের এলাকার মানুষজনের অনুভূতি ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দোয়া করি আল্লাহ উনাকে জান্নাত নসিব করুন এবং পরিবারের সদস্যদের এই শোক সইবার শক্তি দিন।

লেখক : কাজী আখতার হোসেন, সাবেক সচিব।


(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)

১৩৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফেবু লিখন নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন