বর্তমানে প্রধান লক্ষ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও পেশাদার হওয়ার আহ্বান
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতের ঘটনাবলি নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সময়ের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, দেশ সবার এবং রাষ্ট্র নির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে নিহত ছয় সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। এছাড়া বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও সম্মানিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত চার দশক ধরে দেশের সশস্ত্র বাহিনী আস্থা, নির্ভরতা, সাহস ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যে সুনাম অর্জন করেছেন, তা শত প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সম্ভব হয়েছে। এই অর্জন ধরে রাখা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর দুই লক্ষাধিক সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি হাইতিতে নতুন একটি মিশনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে।
নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাহিনীর সদস্যদের ঐতিহাসিক ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি বাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য প্রচার এবং জলবায়ুজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির জন্য নতুন হুমকি সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১১৪ বার পড়া হয়েছে