সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ ৪:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় সংবাদ প্রকাশের পর তিন সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং তাঁদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লামা ফতেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন— জাতীয় দৈনিক সোনালী কণ্ঠ’র বিভাগীয় প্রধান মো. ইসলাম আলী, দৈনিক শ্যামল সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার নিজাম উদ্দিন টিপু এবং দৈনিক সবুজ সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার হিলাল উদ্দিন শিপু।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, লেগুনা চালক লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধ ও উচ্ছেদের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি ও তাঁর সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকদের বাড়ির আশপাশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার লোকমান ও জসিমের নেতৃত্বে একদল লোক সাংবাদিকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে বলে অভিযোগ করা হয়। হামলার সময় বাড়িতে সাংবাদিকরা উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের বৃদ্ধা মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার পর থেকে তারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। বাধা দিলে হামলাকারীরা দা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন টিপু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সংবাদ প্রকাশের জেরে তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।
অন্যদিকে সাংবাদিক হিলাল উদ্দিন শিপু অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, সাংবাদিকদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের বিষয়টি তারা জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক মো. ইসলাম আলী এর আগে লোকমান হোসেনকে প্রধান আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। বর্তমানে ওই সাংবাদিকদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।
১৪৯ বার পড়া হয়েছে