বিলুপ্তপ্রায় আতা ফল আড়াই'শো টাকা কেজি !
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার ধারে কিংবা ঝোপঝাড়ে একসময় চোখে পড়ত আতা ফলের গাছ। এসব গাছে মৌসুমে ভরে থাকত অজস্র ফল। তখন আতা ফলকে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দিত না, এমনকি কেউ কেউ একে অখাদ্য বলেও ভাবত। তবুও কিছু মানুষের কাছে এবং বিশেষ করে পাখিদের জন্য এটি ছিল প্রিয় খাদ্য।
সে সময় রাস্তার ধারে দেখা যেত নানা ধরনের ফলজ গাছ—আম, কাঁঠাল, শরিফা, আতা, বেল, পেয়ারা, বাদাম, তেঁতুল, বড়ই, গাব, খেজুর, তাল, খই ফল, ঢেঁপর ফলসহ নানা জাতের গাছ। এগুলো ছিল প্রকৃতির স্বাভাবিক অংশ, ছড়িয়ে ছিল চারপাশজুড়ে।
ছোটবেলায় দেখতাম, যারা মাঠে-ঘাটে কাজ করতেন, গরু-মহিষ চরাতেন—তাদের অনেককেই আতা ফলসহ খই ফল, ঢেঁপর ফল খেতেন। আমরাও সেসব ফল খেয়েছি, তখন সেগুলোর স্বাদ ছিল অন্যরকম, আজও সেই স্মৃতি মধুর হয়ে আছে।
আমগাছের কথাও মনে পড়ে যায়। আমাদের এলাকায় একসময় বিশাল বিশাল আমগাছ ছিল। গাছভর্তি আম পেকে মাটিতে ঝরে পড়ত, কিন্তু এত বেশি আম হতো যে, গাছ মালিকদের পক্ষে সব সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না।
আমরা ছোট বেলায় আম কুড়াতাম নিজেদের গাছ থেকে। খুব আনন্দ পেতাম খুব। অনেক সময় ভালো না লাগা আমগুলো ফেলে দিতাম। এখনো আমাদের বাড়িতে একশ'র কাছাকাছি আমগাছ আছে।
আম্মা এখনো বলেন, আম পাকার সময় তারা নাকি অসুস্থতার অজুহাতে শুয়ে থাকতেন, শুধু আম বহনের কষ্ট এড়াতে! আবার কখনো কখনো গেলেও ঝুড়ি ভরে আম নিয়ে আসার পথে জঙ্গলে ঢেলে রেখে আবার গাছের কাছে ফিরে যেতেন।
আজ সময় বদলেছে। সেইসব দেশি ফলজ গাছ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের জায়গায় এসেছে নতুন নতুন ফল, যা এখন টাকা দিয়ে কিনতে হয়।
অথচ একসময় এসব ফল ছিল আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে, মাটিতে পড়ে নষ্ট হতো অগণিত ফল।
আজ আতা ফল কিনলাম। এক কেজি আতা ফলের দাম আড়াইশো টাকা—দাম শুনে সত্যিই অবাক হলাম। যে ফল একসময় অবহেলায় পড়ে থাকত, আজ তা এত মূল্যবান! সে কারণেই এই স্মৃতিচারণ।
এক সময় আমাদের বাড়ি সহ চারপাশের এলাকায় প্রচুর আতা ও গাব সহ বিভিন্ন ফলের গাছ ছিল। কোনোটা লাগানো নয়, প্রাকৃতিকভাবেই জন্মাত। শরিফা ও সফেদা আমার এখনো প্রিয় ফল। আতা ফলের পুষ্টিগুণও যথেষ্ট ভালো এবং এটি শরীরের জন্য উপকারী।
বর্তমানে আতা ফলের গাছ আর আগের মতো চোখে পড়ে না। কিছু জায়গায় তো একেবারেই নেই। তবে আতা গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, তাই চাইলে আবারও এটি সহজেই বিস্তার লাভ করতে পারে।
তাই ভাবছি- যে গাছগুলো একসময় আমাদের চারপাশে অযত্ন অবহেলায় জন্মাত, সেগুলোকে আবার যত্ন করে লাগানো দরকার। হয়তো সময় খুব বেশি লাগবে না, শুধু যত্নে আর উদ্যোগেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব সেই হারিয়ে যাওয়া সবুজ ঐতিহ্য—আতা ফলের গাছসহ আমাদের গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা ফলজ সৌন্দর্য।
লেখক: হাবীব চৌহান, সাংবাদিক।
(লখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)
১৪১ বার পড়া হয়েছে