টাঙ্গাইলে র্যাবের পৃথক অভিযান: ফাতেমা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান ২ আসামি গ্রেপ্তার
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর ৬ বছরের শিশু ফাতেমা হত্যা এবং আরেক কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
আজ রবিবার দুপুরে র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন তৌহিদুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিশু ফাতেমা খাতুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আব্বাস আলী (৩০) এবং সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ঘুমন্ত কিশোরীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মো. আব্দুর রহমান (২০)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্যাপ্টেন তৌহিদুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র্যাব-১৪। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল শনিবার পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানার কলেজপাড়া চৌরাস্তা এলাকা থেকে আব্বাস আলীকে এবং সন্ধ্যা ৭টার দিকে চারাবাড়ি বাজার এলাকা থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিশু ফাতেমা হত্যা মামলার বিবরণ: র্যাব জানায়, গত ১১ এপ্রিল (২০২৬) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাড়ির পাশে খেলছিল ৬ বছরের শিশু ফাতেমা খাতুন। এ সময় জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে পাশের বাজারে নিয়ে যান প্রতিবেশী মো. আব্বাস আলী। দীর্ঘক্ষণ পার হলেও ফাতেমা বাড়ি না ফেরায় তার পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করে এবং মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৫৪২, তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬) করে। পরদিন ১২ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে ফাতেমার লাশ দেখতে পান তার চাচা।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ফাতেমার গলায় কালো নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর লাশ গুম ও বিকৃত করার উদ্দেশ্যে তার পায়জামা এবং জুতা আগুনে পুড়িয়ে গলিত অংশ মুখমণ্ডল ও গলায় লেপে দেয়। এ ঘটনায় ফাতেমার মা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৬, তারিখ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ধারা- ৩০২/৩৪/২০১ দণ্ডবিধি) দায়ের করেন।
কিশোরী ধর্ষণ মামলার বিবরণ: দ্বিতীয় ঘটনার বিষয়ে র্যাব জানায়, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের বাসিন্দা ও মামলার বাদীর প্রতিবেশী মো. আব্দুর রহমান। গত ৯ ডিসেম্বর (২০২৫) দুপুর ২টার দিকে বাদী তার কিশোরী মেয়েকে বাড়িতে একা রেখে পরিবারের অন্যদের নিয়ে নানাবাড়িতে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পরদিন ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে আব্দুর রহমান বসতঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় ওই কিশোরীর হাত-পা বেঁধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা বাদীকে খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন এসে ঘটনার বিবরণ শুনে ১৫ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা (মামলা নং-০২) দায়ের করেন।
র্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে