মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ ময়মনসিংহ নগরবাসী
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মশার তীব্র উৎপাতের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ময়মনসিংহ নগরবাসী। দিন-রাত সবসময়ই মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রব কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাসা-বাড়ি, দোকান কিংবা খোলা জায়গা—কোথাও স্বস্তি নেই। মশার কামড়ে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। এতে ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
যদিও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশক নিধনে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবে এতে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। অনেকের মতে, ওষুধ প্রয়োগের কার্যকারিতা কম, আবার কোথাও কোথাও নিয়মিত কার্যক্রমও দেখা যায় না।
নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, “মশার কারণে ঘরে-বাইরে কোথাও থাকা যায় না। গরমের মধ্যে মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে। বাচ্চারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না।” একই অভিযোগ ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিপু ঘোষের। তার দাবি, নতুন ওয়ার্ডগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম আরও দুর্বল, ফলে সেখানে মশার বিস্তার বেশি।
চরপাড়া ও মাসকান্দা এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানে বসে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ড্রেন ও মেনহোল থেকে মশার উৎপত্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ ছিটানো যথেষ্ট নয়। অপরিচ্ছন্ন ড্রেন, জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবনে জলাবদ্ধতা—এসবই মশার বংশবিস্তারের প্রধান কারণ। তাই এসব উৎস দ্রুত ধ্বংস করা জরুরি।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া গেলে মশার উপদ্রব অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচ কে দেবনাথ জানান, মশক নিধনে প্রতিবছরই বড় অঙ্কের বাজেট রাখা হচ্ছে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ।
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, মশার উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংসে কাজ চলছে। ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মার্চ মাস থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমন্বিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন আবু ওয়াহাব আকন্দ। তিনি জানান, নিয়মিত এ কার্যক্রম চলমান থাকলে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই দ্রুত সমন্বিত ও জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার দাবি নগরবাসীর।
১২৩ বার পড়া হয়েছে