সর্বশেষ

সারাদেশ

মোংলায় নতুন ওসির দায়িত্ব গ্রহণ: অপরাধ দমনই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ

মাসুদ রানা, মোংলা
মাসুদ রানা, মোংলা

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মোংলা সমুদ্র বন্দর, সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে এক জটিল ও স্পর্শকাতর জনপদের থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁর সামনে একাধিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আগের ওসির স্বল্প সময়ের মধ্যে বদলিকে ঘিরে স্থানীয় মহলে নানা আলোচনা চললেও নতুন ওসির জন্য এটি এখন একটি বড় ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বন্দর, বন ও সমতল—এই তিন ভৌগোলিক অঞ্চলে বিস্তৃত অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণই তাঁর প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পশুর নদীসহ বন্দর চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ভুয়া নৌযান ব্যবহার করে জাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ, জ্বালানি তেল ও মূল্যবান মালামাল চুরির ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। পাশাপাশি নোঙর করা কার্গো ও লাইটার জাহাজ থেকেও পণ্য চুরির অভিযোগ রয়েছে, যা বন্দর নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরনখোলা রেঞ্জে নতুন করে একাধিক বনদস্যু বাহিনীর সক্রিয়তা দেখা দিয়েছে। জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী পাচারের মতো অপরাধ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে এসব দস্যুতা দমন নতুন ওসির অন্যতম অগ্রাধিকার।

এছাড়া মোংলার সমতল অঞ্চলে জমি ও মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও হয়রানির ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে মোংলা অঞ্চল। সুন্দরবনের দুর্গম জলপথ ব্যবহার করে মাদকের বড় চালান প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব রুট চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মোংলাকে মাদক ও অপরাধচক্রের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা রোধ করতে হলে কঠোর নজরদারি ও অপরাধের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

সব মিলিয়ে নবাগত ওসির সামনে দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুন্দরবনের দস্যুতা দমন, ভূমিদস্যুতা রোধ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলেই মোংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।


১৮৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন