ভারতে স্ত্রী-সন্তানের কাছে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেল, সীমান্তে মিলল রথিকান্তের মরদেহ
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা রথিকান্ত জয়ধর (৪৬) স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে ভারতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় বসতভিটা ও জমিজমা বিক্রি করে যাত্রা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত আর পৌঁছানো হলো না গন্তব্যে। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রথিকান্ত জয়ধর কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের বাসিন্দা এবং দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে রথিকান্তের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর চার সন্তান—রতন, নয়ন, রত্না ও রিয়াকে নিয়ে ভারতের কলকাতায় চলে যান। এরপর কয়েকবার তিনি ভারতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এলেও এবার স্থায়ীভাবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নিজের বসতবাড়ি ও জমিজমা বিক্রি করে টাকা নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রথিকান্ত। তবে কীভাবে এবং কার মাধ্যমে তিনি সীমান্ত পাড়ি দেবেন, সে বিষয়ে পরিবারের কাউকে কিছু জানাননি।
নিহতের ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধর জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা থেকে ফোনে মৃত্যুর খবর পান তারা। পরে তিনি গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তার বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে গুলি করেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান চমন-ই-এলাহী বলেন, দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, এমনকি প্রাণও হারাচ্ছেন। তিনি এ ধরনের ঘটনারোধে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।
রথিকান্ত কীভাবে এবং কার সহায়তায় ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন—এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
১১৭ বার পড়া হয়েছে