ডিজেলের বড় চালান আসছে
চার ট্যাংকারে ১.৪১ লাখ টন, মজুদে স্বস্তি ফিরছে
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ডিজেলবাহী চারটি ট্যাংকার। এর মধ্যে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি এবং আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) আরও একটি ট্যাংকার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব ট্যাংকারে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল আমদানি হচ্ছে, যা দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন করে আমদানি করা ডিজেল খালাস সম্পন্ন হলে মোট মজুদ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে, যা দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, শুক্রবার এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু নামের তিনটি ট্যাংকার বন্দরে ভিড়বে। এছাড়া এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের অপর একটি জাহাজ রোববার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ট্যাংকারগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী তিন দিনের মধ্যেই সব ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে।
চলতি মাসে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, নতুন চালান আসায় তা কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের মোট চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন।
এর অধিকাংশই সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়, আর বছরে প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে পাওয়া যায়।
দেশে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। বিশেষ করে সড়ক পরিবহনের বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী যানবাহনের বড় অংশ ডিজেলচালিত। এছাড়া কৃষিতে সেচযন্ত্র, নৌপথে চলাচলকারী যান এবং বিভিন্ন শিল্প-কারখানার জেনারেটর পরিচালনাতেও ডিজেল অপরিহার্য। দেশের মোট ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশই ব্যয় হয় কৃষি খাতে। বিদ্যুৎ ঘাটতির সময় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
২১০ বার পড়া হয়েছে