জনবল সংকট ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে সীমাবদ্ধতা, তবুও সম্ভাবনার আলো ছড়াচ্ছে মাগুরা টিটিসি
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাগুরা শহরের ইটখোলা বাজার এলাকায় ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) শুরু থেকেই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি তিন মাসে ছয়টি ট্রেডে মোট ১৪৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়ে আসছে।
লেদ মেশিন অপারেশন, অটোমোবাইল, ড্রাইভিং, কম্পিউটার অপারেশন, গার্মেন্টস টেইলারিং ও মোবাইল ফোন সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে অনেকেই দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
বিশেষ করে বিদেশগামী তরুণদের জন্য এই কেন্দ্রটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এখানে পরিচালিত জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্সে প্রতি ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যের এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ইতোমধ্যে অনেকেই জাপানে গিয়ে উন্নত জীবন গড়েছেন।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু সমস্যার মধ্যেও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জামের অভাবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। বর্তমানে মোট জনবলের প্রায় অর্ধেক দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হওয়ায় প্রশিক্ষণের মানে প্রভাব পড়ছে বলে তারা মনে করছেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, প্রতিটি ট্রেডে একজন করে প্রশিক্ষক থাকায় আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একটানা ক্লাস নেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি তৈরি হয় এবং শেখার কার্যকারিতাও কমে যায়। এ কারণে তারা কোর্সের মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশিক্ষক রুবেল হোসেন বলেন, বিদেশগামীদের দক্ষ করে তুলতে এই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার মতে, প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তবে প্রশিক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে অনেকেই প্রস্তুতি ছাড়াই বিদেশে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যক্ষ কাজী সিরাজউদ্দোহা জানান, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যাচ্ছেন, যেখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে তারা আরও দক্ষভাবে কাজ করে বেশি আয় করতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও জানান, বিদেশগামীদের জন্য বিমানবন্দর প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সচেতন করতে তিন দিনের প্রাক-প্রস্থান প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। তবে প্রচার-প্রচারণার ঘাটতির কারণে অনেকেই এসব সুযোগ সম্পর্কে জানেন না।
তিনি আরও বলেন, শিগগিরই গ্রাফিক্স ডিজাইন, আইটি, বিউটিফিকেশন ও সুইং মেশিন অপারেশনসহ নতুন কিছু কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে মাগুরা অঞ্চলে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং প্রশিক্ষণ কাঠামোর উন্নয়ন করা গেলে এই টিটিসি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে দেশের কর্মসংস্থান খাতে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ আরও সহজ হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সম্ভাবনার শক্ত ভিত নিয়ে এগিয়ে চলা মাগুরার এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
১২৪ বার পড়া হয়েছে