সর্বশেষ

সারাদেশ

নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে চাপ, শিবগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃআশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মোঃআশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৩১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কোচিং ও প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রানা বাবু নিয়মিতভাবে একই স্কুলের শিক্ষার্থীদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করছেন। অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ করে তাদের প্রাইভেট ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্লাসে পাঠদানে উদাসীনতা এবং পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিংমুখী করা হচ্ছে। এতে দরিদ্র পরিবারগুলো আর্থিকভাবে চাপের মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। এই নির্দেশনা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক আচরণবিধিতেও এ ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ।

স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি শুধু অনিয়ম নয়, বরং একটি সংগঠিত কোচিং বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক রানা বাবু সাংবাদিকদের বলেন, তিনি প্রাইভেট পড়ান এবং এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চান না। তিনি আরও বলেন, অতীতেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “আমি প্রাইভেট পড়াই, পড়াবো। যা পারেন লিখেন, আমার কোনো সমস্যা নাই।”

এ বক্তব্যকে ঘিরে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নীতিমালার প্রকাশ্য অবমাননা এবং শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।

এদিকে লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম জানান, বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হবে এবং বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট না পড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জয়নাল আবেদিন বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকই প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি জানার পরই প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়বে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১৩৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন