সমুদ্রে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু: দুশ্চিন্তায় জেলে ও মৎস্যজীবী পরিবার
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ মধ্যরাত থেকে বঙ্গোপসাগরে শুরু হয়েছে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন সুরক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে থেকেই জলদস্যুর উৎপাত, জ্বালানি তেলের সংকট এবং মাছের কম আহরণের কারণে চরম হতাশায় রয়েছেন জেলে ও মৎস্যজীবীরা।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যায়। একাধিক ঘটনায় বিভিন্ন এলাকার জেলেরা অপহরণের শিকার হয়ে মুক্তিপণের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ডিজেল সংকটের কারণে অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারেনি। যারা উচ্চমূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করে সমুদ্রে গিয়েছিলেন, তাদেরও আশানুরূপ মাছ ধরা পড়েনি।
রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের জেলে দুলাল মাঝি বলেন, “জলদস্যুর আতঙ্কে সবসময় ভয় নিয়ে সাগরে যেতে হয়। তারপরও গিয়ে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাইনি। এখন নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় আমাদের কষ্ট আরও বেড়ে গেল।”
অন্যদিকে পাথরঘাটা এলাকার জেলে মো. শহীদ জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ট্রলার নদীতে নোঙর করা রয়েছে। তিনি বলেন, “সাগরে যাওয়া তো দূরের কথা, এখন পরিবারের খরচ চালানো নিয়েই চিন্তায় আছি।”
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী বলেন, “মাছও কম, তার উপর তেলের সংকট—সব মিলিয়ে এই খাতের মানুষ চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।”
এদিকে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে মাছের প্রাচুর্য বাড়বে। তিনি বলেন, নিয়ম মেনে চললে জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইতোমধ্যে প্রচার অভিযান ও সভা-সমাবেশ চলছে। পাশাপাশি সমুদ্রে নজরদারি জোরদার করা হবে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নিবন্ধিত প্রায় ৪৭ হাজার জেলের মধ্যে প্রত্যেককে ৭৭.৩ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে। তবে জেলে সংগঠনগুলো প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানালে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে