মোংলায় বৈশাখে প্রাণ ফিরল ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যে মুগ্ধ দর্শক
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে মোংলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই ১৪ এপ্রিল বিকেলে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী “ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা”। ঢোলের তালে তালে লাঠির ঝনঝনানি, কসরতপূর্ণ আক্রমণ-প্রতিরক্ষা আর দলীয় সমন্বয়ের নান্দনিক প্রদর্শনীতে মুগ্ধ হন মাঠে উপস্থিত হাজারো দর্শক। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন উপভোগ করে অনেকে বলেন, এটি যেমন শিশুদের আনন্দ দিয়েছে, তেমনি বড়দেরও ফিরিয়ে নিয়েছে শৈশবের স্মৃতিতে।
স্থানীয়দের মতে, একসময় মোংলা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে প্রায় হারিয়ে যাওয়া এই লোকশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত দল তাদের দক্ষতা ও কৌশল প্রদর্শন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আয়োজনে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে দেশীয় খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম শেকড়ের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধেও ভূমিকা রাখবে।
লাঠি খেলা দলের নেতা মোঃ আবুল বাশার জানান, পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থায়নে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে ভবিষ্যতে এই লোকজ ঐতিহ্য টিকে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শারমিন আক্তার সুমী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে যখন আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে, তখন লাঠি খেলার মতো আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এই ধরনের দেশীয় খেলা শুধু বিনোদন নয়, এটি শারীরিক সক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। সন্তানদের শুধু ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এ ধরনের খেলাধুলার সাথেও যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে বৈশাখের এই আয়োজন মোংলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে