গোলের ক্ষুধা নিয়ে হামজার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করলেও একাদশ সাজানো নিয়ে চ্যালেঞ্জে রয়েছে বাংলাদেশ দল। চোটের কারণে অধিনায়ক তপু বর্মনের অনিশ্চয়তার মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরের ম্যাচে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। এরই মধ্যে অনুশীলনে ফিরেছেন ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। অপেক্ষা হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদের যোগ দেওয়ার।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে জয় এলেও দলের একাদশ সাজাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কোচ টমাস ডুলিকে। চোটের সমস্যার পাশাপাশি দলের আক্রমণভাগে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ঘাটতিও ভাবাচ্ছে কোচিং স্টাফকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাই গোলের ক্ষুধা নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে ছিল বেশ ফুরফুরে পরিবেশ। হালকা শীতের আমেজে সতীর্থদের খুনসুটি আর হাসি-আড্ডায় মুখর ছিল অনুশীলন মাঠ। তবে এই প্রাণবন্ত পরিবেশে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন অধিনায়ক তপু বর্মন।
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে গা গরম করার সময় চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার হতাশা এখনো কাটেনি অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের। এদিন দলের মূল অনুশীলনে বল পায়ে নামেননি তিনি।
শুক্রবার খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও চোট থেকে সেরে ওঠার সুযোগ দিয়েছিলেন কোচ টমাস ডুলি। গতকাল থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে দল। অনুশীলনে দলের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে ফিরেছেন শেখ মোরসালিন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তবে এখন পুরোপুরি সুস্থ তিনি।
অনুশীলনের শুরুতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা জানান মোরসালিন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা শুরুটা ভালো করেছি, প্রথম ম্যাচ জিতেছি। আশা করছি, দ্বিতীয় ম্যাচও জিতব ইনশা আল্লাহ। আমরা তো আত্মবিশ্বাসী। যেহেতু দেশের মাটিতে খেলা, আমাদের জিততেই হবে।’
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন এই ফরোয়ার্ড। মোরসালিন বলেন, ‘আমার চোট ছিল না, একটু জ্বর ছিল...আরও চার-পাঁচ দিন আগে রিকভার করে ফেলছি আলহামদুলিল্লাহ। এখন শতভাগ ফিট। আশা করছি, সুযোগ পেলে ভালো করব।’
বড় ব্যবধানে জয় না পাওয়াকে ইতিবাচক দেখছেন মোরসালিন
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে বড় ব্যবধানে জয় না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে দলের মধ্যে। তবে মোরসালিন মনে করেন, এই ফল দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মতুষ্টি তৈরি হতে দেয়নি। বরং পরের ম্যাচে আরও ভালো করার তাগিদ বাড়িয়েছে।
দলের মানসিক অবস্থা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘একদিক থেকে আমি মনে করি যে ভালো হয়েছে। কেননা, অনেক সময় হয়, অনেক বেশি গোল দিয়ে ফেললে বডি রিল্যাক্স হয়ে যায়। তাই ওই দিক থেকে যে আমাদের ওই...মানে আমরা সবাই এখনো খুব ক্ষুধার্ত হয়ে আছি। আমরা পরের ম্যাচে সেই ক্ষুধা নিয়ে খেলতে নামতে পারব।’
হামজা ও ফারহানের অপেক্ষায় দল
আগামী বুধবার ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে টমাস ডুলির দল। এর আগে আগামীকাল দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রবাসী দুই ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদের। তাঁদের অন্তর্ভুক্তি দলের শক্তি ও মনোবল বাড়াবে বলে আশা করছেন মোরসালিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এটা নিয়ে খুবই আশাবাদী। হামজা ভাই তারপরে ফারহান, ওরা এলে আমাদের মানে টিমের যে স্পিরিট ছিল, তা আরও বাড়বে ইনশা আল্লাহ।’
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে নাম্বার নাইন বা মূল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলেছিলেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। তবে কোচ টমাস ডুলির এই কৌশল প্রত্যাশিত ফল আনতে পারেনি। সাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে বিভিন্ন পজিশনে খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখছেন কোচ।
মোরসালিনও মনে করেন, দলের দীর্ঘদিনের স্ট্রাইকার-সংকট মোকাবিলায় খেলোয়াড়দের যেকোনো পজিশনে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের তো আসলে নাম্বার নাইনের সমস্যা অনেক দিনের। এটা সবাই জানে। কিন্তু আমরা যখন যেখানেই সুযোগ পাই...দেখা গেল আমি মিডফিল্ডে, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে অনেক সময় খেলেছি। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে কোচ যেখানেই সুযোগ দেবেন, আমি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। বিশ্বনাথ দাদাও সেই চেষ্টা করেছেন।’
প্রথম ম্যাচের জয় ধরে রেখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরও ভালো পারফরম্যান্সের লক্ষ্য বাংলাদেশের। মোরসালিনের ফেরা এবং হামজা-ফারহানের যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় এখন দল।
১৩২ বার পড়া হয়েছে