দীর্ঘ ১২ বছর পর ত্রিপোলিতে দূতাবাস চালু করল মিসর
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ ১২ বছর বন্ধ থাকার পর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আবারও দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করেছে মিসর। শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাসটি পুনরায় চালু করা হয়। এর মধ্য দিয়ে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিল কায়রো।
দীর্ঘ বিরতির পর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে দূতাবাস চালু করেছে মিসর। শনিবার দূতাবাসটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে লিবিয়া নিয়ে মিসরের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এত দিন দেশটি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিল। হাফতার ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী।
২০১৪ সালে লিবিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে ত্রিপোলিতে দূতাবাস বন্ধ করে দেয় মিসর। ওই সময় দেশটির রাজধানী ও পূর্বাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি সরকার গড়ে ওঠে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসও তখন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
দূতাবাস চালুর অনুষ্ঠানে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
শনিবার দূতাবাস পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি। তিনি বলেন, দূতাবাস ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব মিসর ও লিবিয়ার দীর্ঘদিনের মানবিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন।
দুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত লিবিয়া
উত্তর আফ্রিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়ায় ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত চলছে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ), পার্লামেন্ট এবং ওসামা হাম্মাদের নেতৃত্বাধীন একটি সরকার রয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐক্যের সরকার (জিএনইউ) দায়িত্ব পালন করছে। সেখানে রয়েছে হাই কাউন্সিল অব স্টেটও।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাতের মধ্যে মিসরের দূতাবাস পুনরায় চালু করাকে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৩১ বার পড়া হয়েছে