সর্বশেষ

জাতীয়

বেতনকাঠামোর অসংগতি পর্যালোচনায় ছয় মন্ত্রীর কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেডের ক্রম, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড নিয়ে তৈরি হওয়া অসংগতি পর্যালোচনায় ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটি বেতন গ্রেড পুনর্বিন্যাস, নতুন ঝুঁকি ভাতা চালু এবং বিদ্যমান ভাতার হার পরিবর্তনের বিষয়ে সুপারিশ করবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনকাঠামোয় বিভিন্ন অসংগতি ও বৈষম্যের অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

কমিটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘কর্মচারীদের বেতন গ্রেড–ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন–পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি’। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২ নভেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

কমিটি বিভিন্ন পদের বেতন গ্রেড বাড়ানো বা কমানো, গ্রেডগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য আনা, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি নতুন ঝুঁকি ভাতা চালু এবং বিদ্যমান ভাতার হার পরিবর্তনের বিষয়েও সুপারিশ দেবে।

কমিটিতে রয়েছেন আরও পাঁচ মন্ত্রী

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ পর্যালোচনা করে সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কমিটি।

সহায়তা করবেন মন্ত্রিপরিষদ ও অর্থ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা

কমিটির কাজে সহায়তা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং জনপ্রশাসনসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবেরাও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন।

অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে কমিটিকে সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি। সুপারিশ বাস্তবায়নের সময় সম্পর্কেও প্রজ্ঞাপনে কিছু উল্লেখ নেই। ফলে বেতনকাঠামোর অসংগতি দূর হওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ

সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন পদ ও পেশার কর্মীদের বেতন গ্রেড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও কোনো কোনো পদে বেতন গ্রেডের পার্থক্য, পদমর্যাদার সঙ্গে গ্রেডের অসামঞ্জস্য এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার সময় এসব অসংগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে কর্মচারীদের অভিযোগ।

অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণে অসংগতির কথা তুলে ধরে তাঁরা সম্প্রতি অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করেছেন।

১১ ও ১২তম গ্রেডের বেতন নিয়েও প্রশ্ন

কর্মচারীদের আবেদনে কয়েকটি অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১তম ও ১২তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণের বিষয়টি।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। প্রারম্ভিক বেতনের হিসাবে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও আগের বেতন সমন্বয়ের পর হিসাবের চিত্র বদলে যাচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করেই নতুন কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।

১৫১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০