সর্বশেষ

ধর্ম

মসজিদে মোবাইল ব্যবহার করা কি গুনাহ?

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:০৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মসজিদে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, মসজিদের আদব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় বৈধ কাজে ফোন ব্যবহার করা যায়। তবে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো কিংবা অন্য মুসল্লির ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো থেকে বিরত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম।

মসজিদ ইবাদত, নামাজ ও আল্লাহর স্মরণের স্থান। সেখানে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা বা ব্যবহার করা নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় বৈধ কাজে মসজিদের শিষ্টাচার বজায় রেখে মোবাইল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে মসজিদের পবিত্রতা ও অন্য মুসল্লিদের ইবাদত ব্যাহত হয়।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদে বসে অপ্রয়োজনে ফোন চালানো, গেম খেলা, দুনিয়াবি কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকা কিংবা ছবি-ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব কাজের কারণে অন্য মুসল্লির মনোযোগ নষ্ট হলে তা জায়েজ হবে না।

মসজিদে প্রবেশের আগে সম্ভব হলে মোবাইল ফোন বাড়ি বা কর্মস্থলে রেখে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তা সম্ভব না হলে মসজিদে ঢোকার আগেই ফোন বন্ধ অথবা নীরব অবস্থায় রাখতে হবে। ফোনের রিংটোন ও বার্তার শব্দের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। রিংটোনে গান-বাজনা বা শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় রাখা যাবে না।

মসজিদে ফোন এলে করণীয় কী?

মসজিদে অবস্থানকালে জরুরি ফোন এলে যথাসম্ভব বাইরে গিয়ে কথা বলা উচিত। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে নিরিবিলি কোনো স্থানে গিয়ে খুব নিচু স্বরে সংক্ষেপে প্রয়োজনীয় কথা বলা যেতে পারে।

তবে মুসল্লিদের মধ্যে বসে ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে অন্যদের নামাজ, জিকির ও ইবাদতে মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে জামাত চলাকালে এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যাবে?

মুফতির বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদে বসে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো যোগাযোগমাধ্যমে একান্ত প্রয়োজনীয় বার্তা আদান-প্রদান করা জায়েজ। তবে অপ্রয়োজনীয় বার্তা পাঠানো, জীবন্ত প্রাণীর ছবি বা ভিডিও দেখা কিংবা গান-বাজনা ও অনৈতিক কাজে এসব মাধ্যম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ফেসবুক-ইউটিউব চালানো কি ঠিক?

মসজিদে বসে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম। বিশেষ করে এসব মাধ্যমে জীবন্ত প্রাণীর ছবি ও ভিডিও দেখা মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারে মানুষ বা প্রাণীর ছবি না রাখার পরামর্শও দিয়েছেন এই মুফতি।

মোবাইল ব্যবহারে ইসলামের মূলনীতি

মুফতির বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদে মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো—কাজটি প্রয়োজনীয় ও বৈধ হতে হবে, মসজিদের আদব বজায় রাখতে হবে এবং অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না।

অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ফোন ব্যবহার, গেম খেলা, ছবি-ভিডিও দেখা এবং অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

পবিত্র কোরআনের সুরা নুরের ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহর ঘরগুলোকে সমুন্নত রাখা এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুফতির বক্তব্যে মসজিদের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টি এ আয়াতের আলোকে গুরুত্ব পেয়েছে।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
ধর্ম নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০