কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, মানুষের আয়-রোজগার বাড়ানো গেলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি-২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ চলছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের আয়-রোজগার বাড়াতে না পারলে অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসা কঠিন। এ কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সভায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনকে নির্বাচনব্যবস্থার পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো দিনের ভোট রাতে হওয়া, ডামি নির্বাচন কিংবা ভোটের আগেই ফলাফল নির্ধারণের সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় তরুণ, যুবক, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা জীবন দিয়েছেন। অতীতে বাংলাদেশ বারবার পথ হারিয়েছে। দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হলে পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকলে দেশের উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সবকিছু বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মানুষের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে আরও অসুস্থ হয়ে ফেরেন। উন্নত দেশের হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত হলেও বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতালের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও সরকারি দপ্তরেও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ঢাকা শহরের সড়কের ল্যাম্পপোস্ট থেকে বিভিন্ন সাইনবোর্ড সরানো হয়েছে। পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। সদিচ্ছা থাকলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সম্ভব। ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখলেও কর্মস্থল ও সরকারি অফিস পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে অনেকের অনীহা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টার আগেই অফিসে উপস্থিত হন। মন্ত্রীরাও তাঁর আগে অফিসে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। আগে তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে বৈঠক হলেও এখন সচিবালয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি যানজট কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। নিজের কর্মতৎপরতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী অন্যদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন।
যুবসমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষায় খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তরুণদের একটি অংশ মাদক ও ক্যাসিনো আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করা হয়েছে। একটি প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিশু-কিশোরদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
কাব ক্যাম্পুরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশুদের শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে স্কাউটিংয়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে বেড়ে উঠলে শিশুরা দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে এবং সামাজিক অনিয়ম ও বৈষম্য মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্কাউটদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে স্কাউট সদস্যদের কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
‘নীল আকাশ, সবুজ বন—স্কাউটিংয়ে গড়ি জীবন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ক্যাম্পুরিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ২০০ ক্ষুদে স্কাউট অংশ নিচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের দক্ষতা, আত্মনির্ভরশীলতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এতে নানা শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান।
এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব মো. আবু আউয়াল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের সচিব প্রফেসর নূর মো. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাস হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ক্যাম্পুরির মাধ্যমে শিশুরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে বাস্তব জীবনের নানা দক্ষতা অর্জন করবে। পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার রাতের জেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সভায় সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০৯ বার পড়া হয়েছে