অর্থনীতির মৃত্যুতে জাতির বিজয় হয় না
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশপ্রেমের নামে এমন কোনো আন্দোলন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, যা দেশের অর্থনীতি, শিল্পকারখানা, সম্পদ ও মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে। পাট, চিনি, চা ও চামড়াশিল্পের মতো একসময়কার অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার প্রেক্ষাপটে পোশাকশিল্পের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, অপরাজনীতি ও আত্মঘাতী বিভাজন নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন ফারূক মাহমূদ। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়, বরং দেশের উৎপাদন ও অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করাই দেশপ্রেমের প্রকৃত পরিচয়।
দেশপ্রেম মানে কেবল আবেগ নয়। দেশপ্রেম হচ্ছে জাতির অস্তিত্ব রক্ষার দায়বদ্ধতা। সেটা শ্রমিকদের ঐক্যে গড়ে ওঠা দেশপ্রেমই হোক আর গণমানুষের দেশপ্রেমই হোক না কেনো।
সকলের নিশ্চয়ই মনে আছে, পাট, চিনি, চা, চামড়া; একসময় আমাদের অর্থনৈতিক আত্মপরিচয়ের স্তম্ভ ছিল। আজ একে একে সেগুলোর পতন ঘটেছে। কৃষি ও দেশীয় শিল্পের দুর্বলতায় অন্যরা সুযোগ নিয়েছে।
আমাদের সেই দুর্বলতা ঢাকতে আমরা অন্যদের কাঁধে দোষ চাপাই। কিন্তু সব দোষ বহিরাগতদের নয়। এজন্য আমাদের অপরাজনীতি, আত্মঘাতী বিভাজন ও দূরদর্শিতাহীন নেতৃত্বও সমান দায়ী।
রেমিটেন্স আহরণের বৃহত্তম মাধ্যম গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে শুরু হয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র।
পোশাকশিল্প লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা ও নিম্নমধ্যবিত্তের বেঁচে থাকার অবলম্বন হলেও তারা আজ নতুন সংকটের মুখে। অথচ যে রাজনীতি মানুষের রুটি-রুজি রক্ষা করতে পারে না, সেই রাজনীতিই আজ দেশপ্রেমের অলিক দাবিদার।
এখানে আন্দোলনের নামে রাস্তায় নেমে আসে শ্রমিকরা, চলে শিল্প কারখানা ভাঙচুর, লুটপাট। তারা ভেঙে চুরমার করে দেয় যানবাহন, মানুষের ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িও।
একটি গাড়ি ভাঙার আগে ভাবুন, সেটি হয়তো কোনো পরিবারের শেষ সম্বল, সন্তানের ভবিষ্যৎ কিংবা একজন শ্রমজীবীর জীবিকার চাকা।
মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র কোনো দলের সম্পত্তি নয়, কোনো ব্যক্তির প্রতিশোধের ক্ষেত্রও নয়। রাষ্ট্র হচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের সম্মিলিত উত্তরাধিকার।
যে আন্দোলন দেশের উৎপাদন, সম্পদ ও মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে, সেই আন্দোলনের কর্তারা যতই দেশপ্রেমের স্লোগান দিক, প্রকৃত অর্থে তা দেশপ্রেমের পরিপন্থী।
জাতিকে ভালোবাসার প্রথম প্রমাণ প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়। বরং নিজের দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা।
১২১ বার পড়া হয়েছে