মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ৩৩৬ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প উদ্বোধন
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দর দেশের প্রথম স্মার্ট বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক। এ ছাড়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চীন থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসি (CCECC) প্রস্তুতকৃত প্রকল্পের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ১০ ও ১১ নম্বর জেটি নির্মাণ করা হবে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে চার বছর।
প্রকল্পের আওতায় নির্মিত জেটি হবে ৩৬৮ মিটার দীর্ঘ ও ৪০ মিটার প্রশস্ত। এতে একসঙ্গে দুটি ২০ হাজার ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) অথবা একটি ৫০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে।
প্রকল্পের মোট আয়তন ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটারজুড়ে থাকবে বোঝাই কনটেইনার রাখার ইয়ার্ড। এ ছাড়া বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত করা হবে ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে রয়েছে চারটি শোর টু শিপ ক্রেন, সাতটি আরটিজিএস, ১০টি টার্মিনাল ট্রাক্টর, ১০টি ট্রেইলার ও একটি স্থায়ী কনটেইনার স্ক্যানারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর দেশের প্রথম স্মার্ট বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এতে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ৩০টিতে উন্নীত হবে। পাশাপাশি বছরে চার লাখ টিইইউ (TEU) কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করবে বন্দরটি। এর ফলে কনটেইনার পরিচালনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী পৃথক কনটেইনার পরিচালনার সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ করেন। পরে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে