মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা, নিহত ৫
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:১২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার ও রোববারের এসব হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত পুলিশের দুটি বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পুলিশের প্রথম বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার নোনে জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিনজন পুরুষ নিহত হন।
পরে পুলিশের দ্বিতীয় বিবৃতিতে জানানো হয়, সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
কুকি সম্প্রদায়ের একটি শীর্ষ সংগঠন এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সংগঠনটির ভাষ্য, ঘটনাগুলো তাদের মাতৃভূমিতে ‘সরাসরি ও বিনা উসকানিতে হামলা’। তবে পুলিশের বিবৃতিতে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ভারত সরকারের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলার মধ্যেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ
মণিপুরে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজ নিজ জাতিগত আবাসভূমির অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন পুরুষের বিরুদ্ধে এক নাগা ব্যক্তিকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
২০২৩ সাল থেকে চলছে জাতিগত সংঘাত
নতুন করে কুকি-নাগা সংঘাত মণিপুরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে রাজ্যটিতে কুকি ও প্রধানত হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাত চলছে।
অর্থনৈতিক সুবিধা ও সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের অধিকার নিয়ে শুরু হওয়া ওই সংঘাতে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। তাঁদের অনেকেই এখনো অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন।
নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জাতিগত সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
১৩২ বার পড়া হয়েছে