আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিক নেতাদের
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের মজুরির দাবি বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টা করা হবে। তবে অন্যের উসকানিতে শিল্পকারখানা ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বাবুল আখতার আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, অন্য কারও উসকানি বা প্ররোচনায় পা দিয়ে শ্রমিকদের নিজেদের শিল্পকারখানার ক্ষতি করা উচিত নয়।
বাবুল আখতার বলেন, পোশাকশিল্প শ্রমিকদের যেমন প্রয়োজন, তেমনি সরকার ও মালিকপক্ষের জন্যও এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক সংগঠনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মঘটের ডাক দেয়নি। তাই কোনো শ্রমিক অন্যায় বা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে বিপদে শ্রমিক ফেডারেশনগুলো তাঁদের পাশে থাকবে না।
শ্রমিকদের মজুরির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বসে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করবেন। এ জন্য শ্রমিকদের কাজে ফিরে উৎপাদন সচল রাখার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের নিম্নতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এতে মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। সোমবারও ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এদিকে চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে। ওই মজুরি কার্যকর হয় একই বছরের ডিসেম্বরে। সে হিসাবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে বর্তমান মজুরির তিন বছর পূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মজুরি নিয়ে সমাধানে পৌঁছানোর আশা করছেন তাঁরা। ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হলে শ্রমিকেরা জানুয়ারি মাসে তা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আবারও শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উৎপাদন সচল রাখতে শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
১২৫ বার পড়া হয়েছে