শ্রমিকদের স্বার্থে আন্দোলন নেই, সহিংসতার উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বর্তমানে শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন চলছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি পূরণ করা হয়েছে। এখন আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন।
শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন এখন চলছে না। আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা। সেই দাবি অনুযায়ী বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে শ্রমিকেরা কখনো সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেননি। বরং গ্রেপ্তার হওয়া মুখোশধারীদের রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
এর আগে সোমবার সকালে সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিকদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য রোববার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সোমবার বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তা সম্ভব না হলে খুব শিগগিরই সভা হবে।
তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে বোর্ডে আলোচনা হবে। সব পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও ঘোষণা করা হবে। আশা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে বোর্ড মজুরি চূড়ান্ত করতে পারবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। শ্রমিকদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে বলেছেন তিনি। তাই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।
গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শিল্প মালিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং তাঁরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কিছু শিল্প মালিক ও কারখানা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এসব কারখানার তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন—এমন কিছু শ্রমিক নেতা ও সংগঠনের নামের তালিকাও মালিকদের কাছে চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে যুক্ত থাকতে পারে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন না।
১১০ বার পড়া হয়েছে