সর্বশেষ

জাতীয়

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: জড়িত মালিক ও ইন্ধনদাতাদের তালিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে কিছু শিল্পমালিক ও রাজনৈতিক পক্ষের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত কারখানার মালিক, শ্রমিকনেতা ও সংগঠনগুলোর তালিকা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সৃষ্ট সংকট নিরসনে কারখানার মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীসহ কয়েকজন শিল্পমালিক জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পোশাক কারখানার কিছু মালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে তালিকা দিতে মালিক সংগঠনগুলোর নেতাদের বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত শ্রমিকনেতা ও সংগঠনগুলোর নামও চাওয়া হয়েছে।

পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। মালিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও যোগাযোগের জন্য প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হবে।

এ জন্য পুলিশের সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, তা সরকার চায় না। এক মুহূর্তের জন্যও কারখানা বন্ধ থাকুক, সেটি কাম্য নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির সমর্থক কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে জড়িতদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ, অডিও এবং সহিংস ঘটনার বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সোমবারই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তা সম্ভব না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সভা হবে।

আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতি তিন বছর পরপর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। কয়েক সপ্তাহ আগে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা সময় লাগে। গত পরশু রাতে শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের প্রতিনিধির নাম দিয়েছে। এরপর যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রজ্ঞাপন জারি করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সোমবার বিকেল তিনটায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার। সেখানে শ্রমিকনেতাদের বক্তব্য ও পরামর্শ শোনা হবে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আগামী ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি ও পলাতক নেতারা দেশে ফিরতে চাইলে দ্রুত ফিরতে পারেন। তাঁদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রমিকনেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

১১২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০