মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে বিক্ষোভ চলাকালে মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
রোববার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর ১১ ও ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে এসব এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয় মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁদের একটি অংশ ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে মিরপুর ১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় যায়।
পরে বেলা ২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এরপর বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার কালশী আদর্শনগর এলাকার ‘২২ তলা’ পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা। শনিবারের এসব ঘটনার পর রোববারও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে